সম্পাদকীয়

সরকারি প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি রোধে পদক্ষেপ কাম্য

মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি বের করে জালিয়াতি করে তার সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া নথিতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করার অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে কারাগারে যেতে হয়। অগ্রণী ব্যাংকের পঞ্চগড়ের টুনিরহাট শাখায় গত মাসের (আগস্ট) শেষের দিকে অন্তত ১০ ব্যক্তি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, তারা ঋণ জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা কোনো ঋণ নেননি, এমনকি ঋণের জন্য আবেদনও করেননি।

‘বিতর্কে’ আটকে গেছে বঙ্গবন্ধু কর্নারের বই। বই কিনতে গত অর্থবছরে দেড়শ’ কোটি টাকা বাজেট করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৪০টি বইয়ের তালিকা করা হলেও প্রথমে আটটি বই কেনা হয়, দাম প্রায় ২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি বইয়ের দামই ২১ কোটি টাকা। এর বাইরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বালিশকাণ্ড, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পর্দাকাণ্ডে জালিয়াতির কথা অনেকের জানা।

গণমাধ্যমের কল্যাণে সবাই জানেন, এসব জালিয়াতির রোধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এত খবর সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজরা থেমে নেই। ফাঁকফোকর পেলেই জালিয়াতির মাধ্যমে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে তারা। গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ: সচিবের ভিজিটিং কার্ড ও সিল দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টা!’ যেন সেটিরই দৃষ্টান্ত।

খবরে বলা হয়, বিভিন্ন চক্রের পাশাপাশি ব্যাংককর্মীরাও জড়িত হয়ে পড়ছেন নানা অসাধু কর্মকাণ্ডে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আসাদুল ইসলামের ভিজিটিং কার্ড ও তার নাম-পদবি সংবলিত সিলমোহর ব্যবহার করে একটি চক্র সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ব্যাংক এশিয়ার পল্টন শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনের নামে দাখিলকৃত একটি অভিযোগপত্রে এ জালিয়াতির চেষ্টা হয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাংক খাতে এ দুটি বিষয়ের অভাব  প্রকট। ফলে ঘটে জাহালমের মতো ঘটনা। আবার বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে উঠে আসা অনেক তদন্তের ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এর অনেকগুলোর কথা গুপ্ত থাকা অস্বাভাবিক নয়।

আমরা বিশ্বাস করি, আলোচ্য প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়ে গ্রাহক ও ব্যাংকারদের যোগসাজশে কোনো কাণ্ড ঘটেনি। তবুও গ্রাহক তথা সাধারণ মানুষের কৌতূহল নিবারণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে সমাধান করা হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাংক সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যদিও ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আমাদের ব্যাংক খাতের নীতিমালা, কোম্পানি আইন প্রভৃতি আন্তর্জাতিক মানের হলেও মাঝেমধ্যে জালিয়াতি সংঘটিত হয়। তাই সরকারের উচিত, যে কোনো জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তপূর্বক শূন্য সহনশীলতায় ব্যবস্থা নেওয়া। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলেই আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..