সরকারি স্থাপনা নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তৈমূরের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার দুজনের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইভী বলেছেন, ‘আমাকে পরাজিত করার জন্য অনেক পক্ষ এক হয়ে গেছে। পক্ষগুলো ঘরের হতে পারে বাইরেরও হতে পারে। সবাই মিলেমিশে চেষ্টা করছে কীভাবে আমাকে পরাজিত করা যায়।’ আইভী বলেন, ‘সহিংসতা যারা করে তারা ঘর বা বাহির বোঝে না। কীভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে নির্বাচনে ঝামেলা করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে হয়তো একটি দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন কারণে আসছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আইভী কীভাবে রাজনীতি করে এবং ভোটারদের কাছে যায়, উনারা যদি এটা না জানতেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী এই সময়ে আমাকে নৌকা দিতেন না। উনিও (প্রধানমন্ত্রী) জানেন, উনার আইভী মানুষের দ্বারে যায়। জনগণই আমার শক্তির উৎস। এছাড়া বিকল্প নেই। তাই আমি বারবার জনগণের কাছে ফিরে যাই।’ আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কী করছে সেটা জানার জন্য নেতারা আসতেই পারেন। ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জ হওয়ায় তারা আসছেন। হয়তো পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাকে তারা ফ্রি করে দিয়েছেন। তবে আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর অনেক লোকজন কিন্তু জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুলিনি।’

নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং। এবার আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ, এই নির্বাচনই শেষ নির্বাচন কি-না এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট। নির্বাচিত হলে জনগণের কাজ করব। জনগণ যা চাইবে সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

অপরদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের হোটেলগুলো চেক করলে দেখা যাবে, সরকারি দলের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে এনে রাখা হয়েছে। সার্কিট হাউস ও ডাকবাংলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এগুলো ব্যবহার করার বিধান নেই। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন।’

গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি দল বৈঠক করেন। ওই বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৈমূর আলম। 

তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে উঠেপড়ে লেগে গেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ডিসি-এসপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। তার বক্তব্য দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আমি অন্যায় মনে করি। একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’

তৈমূর আলমের অভিযোগ, ‘পুলিশ আমার দলের নেতাকর্মী ও সক্রিয় কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। তাদের মুঠোফোনে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেষ্টা করছি।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সবুর সেন্টুসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৫৩  জন  

সর্বশেষ..