বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

সরকারের অংশীদারিত্ব রেখে তামাকমুক্ত দেশ সম্ভব নয়

প্রজ্ঞা ও আত্মা’র অনুষ্ঠানে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত হস্তক্ষেপ করছে তামাক কোম্পানিগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশে আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। ৩৩টি দেশের মধ্যে যে তিনটি দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে মাত্র দুটি দেশ, জাপান ও জর্ডান।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০১৯’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের থামাসাত ইউনিভার্সিটির হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ড. মেরি আসুন্তা ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর, সিটিএফকের বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় যা কিছু করা দরকার তা করবে। সে সঙ্গে তিনি এ গবেষণার তথ্যসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গেও শেয়ার করার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের সংবিধানে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তামাকের কারণে এ অধিকারগুলো ক্ষুণœ হচ্ছে। সুতরাং আইনগত, নৈতিক এবং অর্থনৈতিক যুক্তিতেও তামাক নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

বৈশ্বিক তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক ২০১৯-এর গবেষক এবং লেখক ড. মেরি আসুন্তা বলেন, যত তাড়াতাড়ি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কোড অব কন্ডাক্ট গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হবে, তত তাড়াতাড়ি সরকার এর সুফল পাবে। এটি তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেবে এবং অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। তামাক কোম্পানি যেন কোনোভাবেই সংসদ সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করতে না পারেÑতা এ কোড অব কন্ডাক্ট দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় আর্টিক্যাল ৫.৩-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহারের ব্যাপারে জোর সুপারিশ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালকে (জেটিআই) বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমতি, বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক বিএটিবিকে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি কর অব্যাহতি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের এক্স-ফ্যাক্টরি প্রাইস প্রথা বাতিল করে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করার পর চূড়ান্ত বাজেটে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ট্যারিফ ভ্যালুর ওপর কর নির্ধারণ করা প্রভৃতি কারণে হস্তক্ষেপ সূচকে প্রাপ্ত স্কোর প্রায় একইরকম রয়ে গেছে।

২০১৯ হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৭৭, যা গত বছর ছিল ৭৮। অর্থাৎ আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি অথবা স্কোর এ বছরও সন্তোষজনক নয়।

গবেষণায় সহযোগিতা করেছে গ্লোবাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোল (জিজিটিসি), থামাসাত ইউনিভার্সিটি, থাইল্যান্ড; স্টপ (স্টপিং টোব্যাকো অর্গানাইজেশনস অ্যান্ড প্রডাক্টস) প্রজেক্ট ; এবং ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল টোব্যাকো কন্ট্রোল (আইজিটিসি), জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ।

অনুষ্ঠানে ‘প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯’ এর বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। বিজয়ীদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা, সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

সর্বশেষ..