সম্পাদকীয়

সরকারের ঋণ ২৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দেশের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানেও সে প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা অস্থিরতার মধ্যে থাকা ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া এ ঋণ বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষত এতে তারল্য সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। বড় প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও, যা সার্বিক অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ বাড়াবে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের ব্যাংকঋণ কম নেওয়াটা প্রত্যাশিত। আর ঋণ নিলেও তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে নেওয়া ঋণের তথ্যের আলোকে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। ‘ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ২৩ হাজার ২১৯ কোটি টাকা’ শিরোনামে খবরটিতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আড়াই মাসে ব্যাংক থেকে নিট ২৩ হাজার ২১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে তিন হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অব্যাহতভাবে ঋণ বাড়তে থাকায় বাজেটেও ব্যয়ের বড় খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ ব্যয়।
অনেক দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের বড় উৎস মনে করা হয় পুঁজিবাজারকে। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা থাকায় মূলধন সংগ্রহে ব্যাংকে আগ্রহ বেশি বেসরকারি খাতের। বিকল্প তেমন কোনো উৎসও নেই। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে তা বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাপ বাড়াবে। সেটি হলে উৎপদন, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। সরকারি ঋণের ব্যয় অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি করা হয়, অপচয়ের হারও বেশি। অথচ কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য খাতে সুফল মেলে সামান্যই।
কয়েক বছর ধরে দেশে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। কারণ বিনিয়োগের বড় অংশই সরকারি। বিনিয়োগের সিংহভাগ অনুৎপাদনশীল খাতে যাওয়ায় সুফল মেলে সামান্যই। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। এ জন্য ব্যাংকঋণের পরিবর্তে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিসহ বিকল্প উৎস থেকে সরকারি অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ঋণ বাড়লেও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে, যা উদ্বেগজনক। অথচ ব্যাংকবহির্ভূত উৎসে চাপ কমছে।
অবশ্য বেসরকারি ঋণ বাড়াতে ঋণ-আমানত অনুপাতে কিছুটা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ স্বাভাবিক রাখতে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।

সর্বশেষ..