Print Date & Time : 9 May 2021 Sunday 1:52 pm

সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বই অগ্রযাত্রার চালিকা শক্তি

প্রকাশ: March 2, 2021 সময়- 12:17 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল চালিকা শক্তি বলে মন্তব্য করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (ইউএন সিডিপি) তাদের দ্বিতীয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে তিনটি মূল সূচক তথা মাথাপিছু আয় (১২৩০ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৮২৭ মার্কিন ডলার), মানব সম্পদ (৬৬ পয়েন্টের বিপরীতে ৭৫.৩ পয়েন্ট) এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা (৩২ পয়েন্টের চেয়ে কম ২৭ পয়েন্ট) সূচতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তির এ আনন্দঘন মুহূর্তে এমন একটি সুখবর আসা সত্যিই সম্মানজনক। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশকে সামাজিক ও অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশেষ করে, কভিড-১৯ মহামারি সময়কালেও বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতির মধ্যকার সমন্বয় খুব সফলতার সঙ্গে সমন্বয় করতে পেরেছে। এ সময়ে বর্তমান সরকার করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং বেশ সফলভাবে এর বাস্তবায়ন করেছে।

ডিসিসিআই জানায়, স্বল্পোন্নত ক্যাটেগরি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশকেই বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপসহ বেশকিছু দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে, তবে এলডিসি হতে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে আইপিআর এবং ট্রিপস চুক্তির আওতায় শর্তাবলি ও শিল্পের কমপ্লায়েন্সের মেনে চলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। উপরন্তু মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে রপ্তানি বাজারে অন্যান্য মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযেগিতার মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা কমে আসবে, রপ্তানির বাজারে সমপ্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি হ্রাস পাবে এবং ছোট ছোট স্থানীয় শিল্পে সহায়তা কমে আসতে পারে।

রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতের এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে আমাদের উৎপাদন খাতেও নতুন সম্ভাবনার তৈরি হবে। বাংলাদেশের উত্তরণের পর বাংলাদেশ স্বল্প সুদে ঋণসুবিধা পেতে পারে, ক্রেডিট রেটিংয়ে উন্নতি সাধিত হবে, বেসরকারি খাত আরও প্রতিযোগী হতে পারবে, উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। উপরন্তু, এ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপগুলোয় নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে এবং সর্বোপরি শক্তিশালী আইপিআর অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে।