সম্পাদকীয়

সরকার ঘোষিত পণ্যমূল্য কার্যকর না হওয়া কাম্য নয়

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কয়েকটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো সরকার নির্ধারিত দামে ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করছেন না। সরকারের সিদ্ধান্তকে এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন তারা। দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল প্রকাশিত ‘সরকারের ঘোষণায়ও দাম কমেনি ভোজ্যতেলের’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তেমনটিই প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে ভোজ্যতেলের দাম, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার পণ্যটির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু তারপরও পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। আবার মিলমালিকরা ভোজ্যতেলের দাম কমানোর জন্য সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি। লিটার ও কিলোগ্রামের ওজনের গ্যাঁড়াকলে দাম কমানোর সুফল পাননি ভোক্তারা। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে এমন মতদ্বৈততা কাম্য হতে পারে না।

এর আগে আলুর দাম নিয়ে রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা অব্যাহতভাবে পণ্যটির দাম বাড়াতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সরকার টিসিবির মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাতেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এমনকি সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উল্টো বাজার থেকে গোল আলু উধাও হয়ে যায়। রাজধানীর সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার কারওয়ান বাজারে সাইনবোর্ড টানিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বাজারে আলু নেই। মূলত বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়টি পোক্ত করতেই ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। পরে বাধ্য হয়ে সরকার আরেক দফা দাম বাড়িয়ে পণ্যটির দাম পুনর্নির্ধারণ করে। এক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয় কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা। কিন্তু এ দামে রাজধানীর কোথাও গোল আলুও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অর্থাৎ, এক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

একই পরিস্থিতি অন্যসব পণ্যের ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে বিভিন্ন পচনশীল পণ্য বিক্রি হচ্ছে লাগাম ছাড়া দামে। কিন্তু রাজধানীর বাজারে এসব পণ্য যে দামে বিক্রি হয়, তার অর্ধেক দামও পান না উৎপাদকরা।

পণ্যের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও কাজ করে। যখন একটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে, তখন অন্যান্য পণ্যের দামও কৌশলে বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে এমন নজির পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে যেখন পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করল, তখন চাল, আলু, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন ব্যবসায়ীরা। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাজারে পণ্যমূল্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থায়ী প্রাইস কমিশন করা যেতে পারে। যারা বাজারের যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..