কোম্পানি সংবাদ

সরকার চাইলেই বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে আসবে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’- পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের অভাব শুরু থেকেই। ভালো শেয়ারের চাহিদা মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কোম্পানিগুলোর অনীহার কারণে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। দেশে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে। তারা বাজারে এলে বাজার সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু তাদের বিষয়ে আইনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাদের বাজারে আনার বিষয়ে চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সরকার চাইলে বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা যায়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। রকিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার বর্তমানে ভালো একটি অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে হলে বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার ছাড়তে হবে। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার অফলোডের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, কেবল সরকারি শেয়ারই নয়, বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারও বাজারে আসতে হবে।

অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা বলেন, পুঁজিবাজার বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। এখান থেকে বাজার নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার ছাড়া জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ভালো কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসা জরুরি। তিনি বলেন, দেশে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে, যারা বাজারে তালিকাভুক্ত নয়। এদের পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকার বেশি। ৫০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন হলে বাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে আইনে। কিন্তু সরকার চাইলে এটা সংশোধন করা সম্ভব এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনা সম্ভব।

অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সবার অভিযোগ রয়েছে যে, কোম্পানিগুলোয় সুশাসন নেই। যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা সঠিকভাবে মুনাফা পাচ্ছেন না। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি কোম্পানিতে অনেক স্টেকহোল্ডার আছেন। বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। ক্ষুদ্র বা বড় বিনিয়োগকারীদের এখানে বিনিয়োগ করার কারণ হচ্ছে, বছরশেষে তারা একটা ভালো লভ্যাংশ পাবেন। তিনি বলেন, এটা তাদের অধিকার। অনেক কোম্পানি লভ্যাংশ খুবই কম দেয়; আবার কিছুু কোম্পানি লাভ যেটা হচ্ছে তা দেখাচ্ছে না। এই যে দেখাচ্ছে না, এর মধ্যেই করপোরেট গভর্ন্যান্সের অভাব। এর জন্য প্রথমেই ম্যানেজমেন্ট দায়ী, এরপর কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট যিনি করছেন তার ভূমিকা এবং সর্বশেষ অডিট ফার্মের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, গভর্ন্যান্সের অভাবেরই সত্যিকারের ছবিটা দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক হচ্ছে লভ্যাংশ কম পাচ্ছেন; অন্যটি হচ্ছে সঠিক প্রফিটই তারা জানতে পারছেন না। প্রফিট কম দেখানোর ফলে পাশাপাশি সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, প্রফিটের ওপর সঠিক ট্যাক্স পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউকে ভূমিকা রাখতে হবে; বাংলাদেশ ব্যাংক যদিও করপোরেট গভর্ন্যান্সের ওপর একটি গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছে। তবে এ গাইডলাইন সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, বাজার এখন বেশ স্থিতিশীল। দেনদেন বাড়ছে। ছোটখাটো সংশোধন হলেও বাজারের গতি বাড়ছে। এটাকে ধরে রাখতে হলে বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার প্রয়োজন।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..