প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সরঞ্জাম সহজলভ্য : ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা

হামিদুর রহমান: বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসা। বরং এ-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সহজলভ্য হওয়ায় এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা না থাকায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে অবৈধ এ ব্যবসা। জানা যায়, অবৈধ ভিওআইপি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদির আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু আমদানি নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্নভাবে চোরাইপথে আসছে ভিওআইপিতে ব্যবহƒত সরঞ্জামাদি। ফলে একপ্রকার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা।

জানা যায়, বর্তমানে ভিওআইপিতে ব্যবহƒত সরঞ্জামের দামও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। গত দুই বছরের তুলনায় প্রতিটি পোর্টের মূল্য কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছর আগে ১৬ পোর্টের একটি ডিভাইসের মূল্য ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে এ ডিভাইসটির মূল্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। ৩২ পোর্টের ডিভাইসের মূল্য ছিল প্রায় তিন লাখ ২০ হাজারের মতো, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজারের মতো। আর ৬৪ পোর্টের ডিভাইসের মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। বর্তমানে এ ডিভাইসটি বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকায়। আর সব চেয়ে বড় ৯৬ পোর্টের ডিভাইসটি মূল্য ছিল আট থেকে ১০ লাখের মতো। বর্তমানে সব চেয়ে বড় এ ডিভাইসটি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকায়।

অবৈধ ব্যবসা করায় সরকারি নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউরোটেকের সাজ্জাদ হোসাইন জানান, অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা করায় ২০১৩ সালে র‌্যাবের হাতে তার ভিওআইপি ব্যবসার সব সরঞ্জামদি ধরা পড়ার পর থেকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ভিওআইপি ব্যবসা।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভিওআইপি ব্যবসার যন্ত্রপাতির মূল্য কমে যাওয়ায় বাড়ছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা। এর আর একটি কারণ হচ্ছে আগে এসব সরঞ্জামদি পাওয়া কঠিন ছিল সবাই বুঝতো না এখন মোটামুটি সবাই বোঝে। ভিওআইপি ব্যবসার জন্য দেশে বিভিন্ন ডায়লার, সুইচ বৈধভাবে পাওয়া যায়। ডিভাইস বিক্রি অবৈধ যে কারণে এটি পাওয়া খুব কঠিন।  বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকার কারণে পরিচিত মাধ্যম ছাড়া পাওয়া যায় না। অনলাইনে বিভিন্ন পেইজ থাকলেও সেগুলো থেকে ডিভাইস ক্রয় করা ঝুঁকি।’

এদিকে ৮ পোর্টের একটি ডিভাইসে ব্যবহার করা হয় ৮ সিম। ১৬ পোর্টের ডিভাইসে ব্যবহার হয় ১৬টি সিম, ৩২ পোর্টেল ডিভাইসে ৩২টি সিম, ৬৪ পোর্টের জন্য ৬৪টি সিম ও ৯৬ পোর্টের একটি ডিভাইসের জন্য ব্যবহার করা হয় ৯৪টি সিম। আর এসব পোর্টে ব্যবহার হচ্ছে সব মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহƒত হচ্ছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটক ও পরের অবস্থানে রয়েছে দেশের বহুজাতিক টেলিকম অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সার্ভার নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে আসতে পারলে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ করা কঠিন হবে। তার একটি বড় কারণ হচ্ছে দেশে ভিওআইপির ডিভাইস বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও ডায়লার ও সুইচ বিক্রি উš§ুক্ত থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা সহজেই সংগ্রহ করছে এসব যন্ত্রাংশ। দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাড়া ও বিক্রি হচ্ছে ভিওআইপি সরঞ্জামাদি। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, যারা এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে তাদের লাইসেন্স আছে কি-না, কী কারণে তারা এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে এ বিষয়গুলো যদি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়, তাহলে অবৈধ ব্যবসা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইজিডব্লিউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম কলরেটে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সার্ভিস মূল্য নিচ্ছে। ফলে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা বর্তমানে আগের মতো আকর্ষণীয় রেটে সার্ভিস দিতে পারছে না। কারণ বর্তমান বাজার মূল্যে বিদেশি ক্রেতাদের সার্ভিস দিলে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো মুনাফা হয় না।

বিটিআরসির নির্দেশনা অমান্য করে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর অবৈধভাবে দেশে ভিওআইপি কল আনছে। এ ছাড়া টেলিটকের অ্যাক্টিভেটেড লাখ লাখ সিমের পুনঃনিবন্ধন করা হয়নি। অনিবন্ধিত এসব সিম এখনও নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ করা হয়নি। এসব অনিবন্ধিত সিম এখন অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহƒত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নামে প্রিঅ্যাক্টিভেটেড নিবন্ধিত সিমও (সব অপারেটর) এ কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিভাইস বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় দেশের বাইরে থেকে বড় বড় চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে আমদানি করা হয় এ ডিভাইস। অন্যদিকে ডায়লার, সুইচ, রাউট বিক্রি উম্মুক্ত থাকায় সহজে সংগ্রহ করতে পারছে এসব সরঞ্জাম।