সম্পাদকীয়

সর্বসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ধারণা দিতে হবে

মহামারি করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। এখন পর্যন্ত প্রতিষেধক আবিষ্কৃত না হওয়ায় এবং সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ও কিছু শিষ্টাচার মেনে চললে কভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এরই মধ্যে কভিডে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২ হাজার মানুষ মারা গেছে। গত ৮ মার্চ আমাদের দেশেও প্রথম আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলে এবং এখন পর্যন্ত দুজন মারা গেছে।

গণমাধ্যমগুলোয় কভিড-সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হওয়ায় প্রাণঘাতী এ রোগের সংক্রমণ রোধে করণীয় সম্পর্কে কমবেশি এখন সবাই জানে। যেমন সাবান, গরম পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশিতে টিস্যু ব্যবহার করা। টিস্যু না থাকলে বাহুর উপরের অংশ দিয়ে নাক-মুখ আড়াল করা, চোখ, নাক ও মুখের ভেতর হাত না দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছে না যাওয়া এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া জন সমাগম এড়িয়ে চলা। ব্যক্তিগত জীবনাচরণে আমাদের অনেকে আগে থেকেই এমন কিছু নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু এখন তা একপ্রকার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চর্চা করলে কভিড প্রতিরোধ সম্ভব।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘করোনা ঝুঁকি প্রতিরোধ: ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লেনদেনের স্থানগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও তদস্থলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। এটিএম বুথেও জীবাণুমুক্তকরণের আওতায় আনতে হবে। করোনার ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে সচেতন করতে ই-মেইল, প্রচার-প্রকাশনা, ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ, ফোন ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এটি যথা নিয়মে প্রতিপালনে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে নির্দেশনা জারিসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূল ব্যবস্থা নিলে সেবাগ্রহীতারা কভিডের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারে।

নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। কভিড প্রতিরোধে সত্য-মিথ্যা অনেক ভুল তথ্য কিংবা পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হচ্ছে। যেমনÑএকটু পরপর পানি, লবণ বা ভিনেগার মিশ্রিত পানি বা গরম পানি পান করলে কিংবা গলা ভেজালে অথবা রসুন মুখে রাখলে করোনাভাইরাস গলা থেকে ফুসফুসে যায় না। এটি সত্য নয়। গরমে করোনার সংক্রমণ হবে না, এই ধারণাও ভুল। আবহাওয়া ও পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই। করোনা যে কোনো তাপমাত্রায় সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি কভিড কী ছড়ায়, সেটি জানতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সেবা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..