সম্পাদকীয়

সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসীদের ফ্লাইট-সমস্যার সমাধান করুন

বাড়তি রোজগারের প্রত্যাশায় বিদেশে পাড়ি জমান অনেকে। বিদেশ যেতে গিয়ে কতভাবে হয়রানি-প্রতারণার শিকার হতে হয়, তা কমবেশি সবার জানা। তারা কোনোভাবে বিদেশ গিয়ে কত কষ্টে-সৃষ্টে অর্থ উপার্জন করেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটান। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কভিড মহামারির চলমান সংকটেও প্রবাসী-আয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কভিডকালে দেশে ফিরে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। ফিরতে গিয়ে তারা অবর্ণনীয় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

কিন্তু সেভাবে রাষ্ট্র থেকে সহায়তা পাচ্ছেন না। কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে তারা কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। পুঁজির অভাবে দেশেও আয়বর্ধক কোনো কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করবেন, এমন সঙ্গতিও নেই। প্রবাসে গিয়ে সফল হয়েছেন এমন প্রবাসীর সংখ্যা হাতেগোনা। কিন্তু যারা সফল হননি, তারা তো রাষ্ট্রের বোঝা নন। অন্তত কারও কাছে হাত পাততে হয় না। এরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। তারা যে বিদেশ যেতে পারছেন না।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম দিনের অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী কর্মীরা। এতে বলা হয়, প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরানোর উদ্যোগ প্রথম দিনেই ধাক্কা খেল। ১২টি এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে কমপক্ষে সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সৌদি আরবের অনুমতি না পাওয়া এবং যাত্রী না পাওয়ায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে অনেকে শুনছেন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তারা আছেন বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে।

শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রিয়াদগামী ফ্লাইট সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসারে ছয় ঘণ্টা আগে রাত ১টার মধ্যেই বিমানবন্দরে এসেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতে প্রবাসীকর্মীরা বিক্ষোভ করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পরে এসব যাত্রীকে হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করে বিমান।

লকডাউনে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ। অতিরিক্ত টাকায় গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় এসে জানা যাচ্ছে ফ্লাইট বাতিল। প্রবাসীদের প্রশ্ন, ‘এখন আমরা কোথায় যাব? আবার গাড়ি ভাড়া কে দেবে?’ আর যাদের ভিসার মেয়াদ বেশিদিন নেই, তাদের কপাল পুড়বে সময়মতো যেতে না পারলে। বিমান জানিয়েছে, সৌদি আরবে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

প্রবাসীকর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার জন্য সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। কভিডকালে ফিরতে দেরি হলে ভিসার মেয়াদ যেন শেষ না হয়, সেজন্য শ্রমিকদের সহায়তায় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ ফ্লাইট চালু করে তাদের পর্যায়ক্রমে কর্মস্থলে ফেরার নিশ্চিত করতে প্রবাসে আমাদের দূতাবাসগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ ফ্লাইটগুলোর যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষের কোনো রূপ দায়িত্বহীনতার কারণে একজন প্রবাসীকর্মীও যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হবে অমার্জনীয় অপরাধ। আমরা আশা করি, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..