দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

সর্বোচ্চ নিরাপদ ব্যাংক ঝুঁকিতে প্রকাশনা খাত

ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘ খরা কাটিয়ে সম্প্রতি পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। মাঝে টানা চার কার্যদিবস সূচকের পতন দেখা গেলেও আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে সূচক। বাজারের এই অবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন নতুন ও পুরোনো সব ধরনের বিনিয়োগকারী, যার জের ধরে সম্প্রতি সব খাতের শেয়ারদরই বাড়ছে।

যদিও এখনও সিংহভাগ শেয়ার বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত, আর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাত।

সর্বশেষ তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে এখন অতিমূল্যায়িত কোম্পানির সংখ্যা কম। তবে খাতভিত্তিক লেনদেনে এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে কাগজ ও প্রকাশনা এবং পাট খাতের কোম্পানি। এর মধ্যে ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাত।

শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই-রেশিও) হিসাবে বর্তমানে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কোম্পানির গড় মূল্য আয় অনুপাত প্রায় ৫১। পরের অবস্থানে থাকা পাট খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের গড় মূল্য আয় অনুপাত অবস্থান করছে ৩৯-এ। এই দুই খাত ছাড়া অন্যান্য সব খাতই এখনও নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এখনও বিনিয়োগ-উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। তবে এই হিসাব করে বিনিয়োগকারীদের যে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। এখন বেশিরভাগ শেয়ারের দরই ঊর্ধ্বমুখী। এই সময়েই বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বাজারের এই পরিস্থিতিতে কোন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে শুধু শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত না দেখে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সবার আগে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা দেখা দরকার। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কী পরিমাণ রিটার্ন দিচ্ছে, তাও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই কম হলেই সেই কোম্পানি ভালো হবে, সব সময় এমন ভাবা ঠিক নয়। অনেক দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতও কম দেখা যায়। সে কারণে বিনিয়োগ করার বেলায় শুধু একটি দিকে দেখলে হবে না।

সম্প্রতি সিংহভাগ শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে মাঝখানে টানা চার দিন পতনে থাকার কারণে আবারও পিই-রেশিও কমতে দেখা গেছে। ছয় কার্যদিবস আগে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের গড় পিই-রেশিও ছিল ১৩ দশমিক ৭২ পয়েন্টে, যা বর্তমানে ১৩ দশমিক ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বর্তমানে সর্বোচ্চ নিরাপদে থাকা ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে সাত দশমিক শূন্য আট পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পিই রেশিও ১৭ দশমিক ২২ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২০ দশমিক ০৯ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে, বিমা খাতের ১৯ দশমিক ১০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ২৪ দশমিক ১৩ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ১৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ১৬ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১২ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ২৯ দশমিক শূন্য আট পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৩৩ দশমিক ৭২ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতের পিই রেশিও ২৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রসঙ্গত, নিয়ানুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মুল্য অনুপাত আয় যত কম, সেই শেয়ারে বিনিয়োগ তত ঝুঁকিমুক্ত। সাধারণত ১৫-এর নিচে পিই-রেশিও থাকলে শেয়ারকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। ২০-এর ওপরে পিই চলে গেলে তা ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর ৪০-এর ওপরে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত চলে গেলে সেই শেয়ারে মার্জিন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..