সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯-এর কারণে দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এত দিন অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রেখেছে। বিভিন্ন সেমিস্টারে শিক্ষার্থীও ভর্তি করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শর্তসাপেক্ষে সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার আগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অন্তত এক ডোজ টিকা গ্রহণ বা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় এমনটা জানিয়েছে ইউজিসি।

কমিশনের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ ওই নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন। নির্দেশনায় টিকা-সংক্রান্ত শর্ত মেনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্যাম্পাস খুলতে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানানো হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের পাঠানো নির্দেশনায় ইউজিসি জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউজিসি ও উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির এক বৈঠকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দেয়া যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রক্রিয়া হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করতেও বলেছে। এজন্য সরকার শিক্ষার্থীদের বয়স এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের শর্তও শিথিল করে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে।

দেশে কভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ২০২০ সালের মার্চে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। এরপর সংক্রমণ কিছুটা নি¤œমুখী হলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও মহামারি আবার বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ বছর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাসে ফিরেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্যাম্পাস ও হল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর একে একে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল খুলে দিতে পদক্ষেপ নেয়। গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেয়া হয়েছে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষার্থীদের হলে ওঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। কভিড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে টিকা গ্রহণ সাপেক্ষে পরে সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ৫ অক্টোবর থেকে এক ডোজ টিকা নেয়ার শর্তে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্তত এক ডোজ টিকা দেয়ার সনদ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও সেমিনার লাইব্রেরিতেও যেতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। আর মহামারি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও টিকাদানের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ..