খবর

সহকারী কর কমিশনার মেজবাহউদ্দিন বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়করের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করায় কর অঞ্চল খুলনার সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সই করা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর খুলনা নগরীর বয়রা সবুরের মোড় এলাকার নিজ বাসভবনের সামনে থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন।

সূত্রমতে, বাগেরহাট কর সার্কেলের সাবেক সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ অভিনব কায়দায় করদাতাদের দেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৭ মে খুলনার কর অঞ্চলের উপকর কমিশনার খন্দকার মো. তারিফউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনা মহানগর আদালত (খালিশপুর) অঞ্চলে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক তরিকুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। এর আগে একই বছরের ১৯ মে মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৮ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যান (সাবেক) মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ বিবরণী দাখিল করেন। সেই অভিযোগ বিবরণী অনুযায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান এই সহকারী কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

অভিযোগ বিবরণীতে বলা হয়, সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ ২০১৭ সালের ৮ মে থেকে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা কর অঞ্চলের অধীনস্থ কর সার্কেল বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলায় দায়িত্বরত ছিলেন। এসময় করদাতাদের দেওয়া ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখায় জমা দেন। এরমধ্যে সার্কেল-১০ মাগুরায় কর্মরত থাকাবস্থায় করদাতাদের পে-অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক ইত্যাদি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেননি। তিনি খুলনা কর অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখা থাকা হিসাব থেকে নিজে চেক সই করে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

সার্কেল-১১ নয়াপাড়ায় কর্মরত থাকাবস্থায় ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। সাকেল-১৪ বাগেরহাট কর্মরত থাকা অবস্থায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। একই শাখা থেকে আরও ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। সার্কেল-১৭ মোংলায় কর্মরত থাকাবস্থায় ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৭ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। একই শাখা থেকে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মাসৎ করেছেন। সার্কেল-২২ ভেড়ামারায় কর্মরত থাকাবস্থায় সোনালী ব্যাংক ভেড়ামারা শাখা থেকে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ খুলনা কর অঞ্চলের আওতাধীন বিভিন্ন কর সার্কেলে কর্মরত থাকাবস্থায় করদাতাদের দেওয়া পে-অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক ইত্যাদি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অবৈধভাবে জমা প্রদান করেছেন। নিজ সই করা চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. মেজবাউদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি-৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়নতার দায়ে’ অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। সেই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে প্রস্তাবিত শাস্তি প্রদানের বিপক্ষে তিনি কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তি প্রদান করতে পারেননি। তিনি এ বিষয়ে কোন ব্যক্তিগত শুনানি চাননি। বিষয়টি তদন্তে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে মো. মেজবাহউদ্দিন এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন। সে অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..