প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সহায়ক সরকার নিয়ে অপারগতা জানালেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কিছু করার বিষয়ে নিজেদের অপারগতা জানালেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, সংবিধান ও আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই নির্বাচন করতে হবে। সাংবিধানিক বিষয় আমাদের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

প্রায় তিন মাস ধারাবাহিক সংলাপের পর গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিইসি।

এখতিয়ারবহিভর্‚ত বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগও ইসির নেই বলে মনে করেন নুরুল হুদা। তিনি বলেন, সহায়ক সরকার, সংসদ ভেঙে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের ওপর চাপ দেওয়া বা বাধ্য করার সুযোগ আমাদের নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সমঝোতার কোনো উদ্যোগও নেব না। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান হওয়া ভালো। সংলাপে আসার নানা প্রস্তাব নিয়ে ইসির করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, ইসির এখতিয়ারের মধ্যে থাকাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং বাকিগুলো সরকার ও সংসদের কাছে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেগুলো আমাদের করার আছে তা আমরা বাস্তবায়ন করব। আইন প্রণয়নের বিষয়ে সংসদের কাছে পাঠাব এবং সাংবিধানিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করব।

এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, ভোটের সময় নিয়ন্ত্রণ আমাদের থাকে; ইসির নিয়ন্ত্রণ আছে ও থাকবে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য আইনের নতুন করেও পরিবর্তনের দরকার নেই, বিদ্যমান আইন প্রয়োগই যথেষ্ট। তা করতে পারলেই ভোটে শৃঙ্খলা থাকবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সংলাপে বিএনপিসহ তাদের মিত্র দলগুলো নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছিল। সেইসঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতার কথাও বলেছিলেন তারা। কিন্তু সংলাপ শেষে গতকাল নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপি ও তার মিত্রদের হতাশ করলেন সিইসি।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত¡াবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত হওয়ার পর এখন নির্বাচিত সরকার এবং সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচনের বিধান। তবে তাতে আপত্তি জানিয়ে আসা বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বয়কটের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ‘সহায়ক সরকারের’ দাবি তুলেছে। তবে এটি কেমন হবে, তা এখনও জানাননি তারা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, সংবিধান অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।