Print Date & Time : 13 April 2021 Tuesday 7:31 pm

সহিংসতার শঙ্কার মধ্যেই মিয়ানমারে প্রতিবাদের ঝড়

প্রকাশ: February 17, 2021 সময়- 09:51 pm

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সহিংসতার শঙ্কার মধ্যেই মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বুধবার ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলে জড়ো হয় হাজারো জনতা। বিক্ষোভকারীরা লাল পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানান। এতে অচল হয়ে পড়ে দেশটির বৃহত্তম এ শহর। খবর: রয়টার্স।

বিশাল জনসমাগমের পাশাপাশি লোকজন শহরের প্রধান সব রাস্তায় কিংবা জংশনে তাদের গাড়ি থামিয়ে বনেট খোলা গাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন, যাতে সামরিক বাহিনীর যে কোনো গাড়ি এ বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে বাধার মুখোমুখি হয়। রাস্তায় বসে অবরোধ করায় চলেনি কোনো যানবাহনও। যানবাহন চালকরাও নিজেদের গাড়ি রাস্তায় রেখেই অবরোধে যোগ দিয়েছেন। এক ব্যানারে দেখা যায় ‘আমরা কখনোই সামরিক বাহিনীর পদতলে হার স্বীকার করব না’ লেখা প্রতিবাদ।

এদিকে মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্র–স বলেন, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঘটনায় তিনি ভীত। তিনি বলেন, দেশজুড়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের টহলের তথ্য পেয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী অবৈধভাবে সরকার উৎখাতের পর বুধবার মিয়ানমারে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছি। ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী সাইট নেটব্লকস বলছে, টানা তৃতীয় রাতের মতো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিল মিয়ানমারে। তবে বুধবার সকালের দিকে দেশটির কিছু কিছু অঞ্চলে আবার ইন্টারনেট সংযোগ ফিরেছে।

বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে দেশটির গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চির ছবি ও মুক্তির দাবির সমর্থনে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার দেখা যায়। সামরিক বাহিনীকে শিগগিরই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

কয়েক দশকের সামরিক শাসনের অবসানের পর ১০ বছর আগে মিয়ানমারে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। সামরিক শাসনের আমলে দেশটিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর ব্যাপক সহিংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ইয়াঙ্গুন বিক্ষোভে অংশ নেয়া অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক বলেন, আমি শিগগিরই অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট ও অন্যান্য নেতার দ্রুত মুক্তি চাই। আমরা আমাদের গণতন্ত্র ফিরে চাই।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় আগে সামরিক বাহিনীর হাতে গৃহবন্দি হয়ে পড়ার পর থেকে অং সান সু চিকে দেখা যায়নি। তার আইনজীবী খিন মং জ্য বলেন, মঙ্গলবার আদালতে সু চির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ দাখিল করেছে পুলিশ। গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে করোনাবিধি-সংক্রান্ত জাতীয় দুর্যোগ আইন লঙ্ঘনের নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে মিয়ানমারের এই নেত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ছয়টি ওয়াকিটকি আমদানি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। সু চির আইনজীবীরা বলেন, চলতি সপ্তাহেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সু চি আদালতে হাজিরা দেবেন। কিন্তু তার আইনজীবী সেখানে থাকতে পারবেন না। কারণ তাদের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দেয়া হয়নি। সু চির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তার আইনজীবী খিন বলেন, ‘কোনো সংবাদই ভালো নয়। আমরা এখনও কোনো ভালো অথবা খারাপ সংবাদ পাইনি।’

গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানে জনগণের সমর্থন রয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী যে দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা সেই দাবির বিরুদ্ধে গতকাল এ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচন হয়। এতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সরকার বিপুল সংখ্যগরিষ্ঠতা পেয়ে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরে। সেনাবাহিনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে।