বিশ্ব সংবাদ

সহিংসতা ও চরমপন্থা অবসানের আহ্বান

তিন দিনের ইরাক সফরে পোপ ফ্রান্সিস

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে প্রথমবারের মতো ইরাক সফরে গিয়েছেন রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন। শুক্রবার দেশটিতে পৌঁছান পোপ। ইরাকে পৌঁছে তিনি  সহিংসতা ও চরমপন্থা অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরাকে বসবাসরত খ্রিষ্টানদের জন্য তার এ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর: বিবিসি, রয়টার্স।

সফরের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল সিস্তানির বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সিস। নাজাফের সরু গলিতে অবস্থিত ওই বাড়িতে কয়েক দশক ধরে ভাড়া থাকছেন সিস্তানি। ইরাক ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিয়াপন্থিদের কাছে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন। রাজনীতিতেও তার প্রভাব ব্যাপক।

বৈঠক শেষে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্মস্থান প্রাচীন উর শহরের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা করেন পোপ। বাগদাদে ফেরার পর চালডিয়ান ক্যাথেড্রাল অব সেন্ট যোসেফে বক্তব্য দেয়ার কথা তার।

২০০৩ সালে মার্কিন হামলার আগে ইরাকে ১৬ লাখ খ্রিস্টান ছিল। এখন আছে মাত্র তিন লাখ। তারপর থেকে ৫৮টি চার্চ হয় ভেঙে ফেলা হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাদ্দাম হুসেনের সময় খ্রিস্টানরা বৈষম্যের শিকার হলেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করেনি।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সফরে ইরাকে গেলেন রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান এ ধর্মগুরু। শুক্রবার দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি বলেন, ইরাকে বসবাসরত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উচিত পূর্ণ অধিকার, স্বাধীনতা ও দায়িত্বের সঙ্গে আরও ভালোভাবে নাগরিক কর্তব্য পালন করা। তিনি সেখানে আন্তঃধর্ম সংলাপেও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাদিমি বিমানবন্দরে পোপকে স্বাগত জানান। এ সময় আশেপাশে অবস্থানরত ইরাকিরা তাদের জাতীয় পোশাক পরে গানে গানে পোপকে অভিবাদন জানান। পরে ইরাকি প্রেসিডেন্ট বাহরাম সালিহের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পোপ বলেন, ইরাকে আসতে পেরে তিনি খুবই খুশি। একইসঙ্গে ইরাককে তিনি ‘সভ্যতার লালন-পালনকারী’ বলেও অভিহিত করেন।

পরে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেন পোপ। সেখানে তিনি বলেন, ‘(ইরাকে চলমান) সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ হোক … সহিংসতা, চরমপন্থা, বিভেদ এবং অসহনশীলতারও অবসান হোক!’

পোপ ফ্রান্সিসের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমাতে দিন ও রাতের বেলা কারফিউ জারি করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..