দুরে কোথাও

সাংবাদিকদের নৌভ্রমণ

‘সব সখীরে পার করিতে নিব আনা আনা

তোমার বেলায় নিব সখী তোমার

কানের সোনা…’

জনপ্রিয় এ গানটি শুনে মন উড়–উড়– করছে, নাকি হারিয়ে যাচ্ছেন কোনো রঙিন স্মৃতির মোহনায়? আমার মনে একটি ছবিই ভাসছে, তা হলো নৌকাভ্রমণ! প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা আর রঙিন স্বপ্ন যেখানে সুখের ছোঁয়া দিতে ব্যর্থ, সেখানে একটি নৌভ্রমণ পারে নতুন সুখের দোলা দিতে। সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস) পরিবারের এমনই চমৎকার একটি নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। এমনিতে মানুষের কাছে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে ব্যস্ত থাকলেও সাংবাদিকদের মনেও যে আর ১০টা মানুষের মতোই নানা ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা থাকে, এটা তারই উদাহরণ।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অর্থই হচ্ছে ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট প্রভৃতি। সংক্ষেপে অনেক শিক্ষার্থী একে আদর করে বলেন ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা হলেও অবসান ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে একটি চমৎকার নৌকাভ্রমণের আয়োজন করেন গবিসাসের সদস্যরা। সমিতির সব সদস্য সেদিন পড়ন্ত বিকালে নৌকাভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নলামের বংশী নদীতে নৌকাভ্রমণ যেন আনন্দের মাঝেও বোনাস আনন্দ। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আরও একটি মিনি ভ্রমণ হয় অটোরিকশায়। বাইশমাইল থেকে নলামগামী অটোরিকশাগুলো ভ্রমণে নতুন ছন্দ দেয়। চারটি গাড়ি একসঙ্গে ছুটে চলে নদীর দিকে। একটি গাড়িতে তিনজনের জায়গায় পাঁচজন বসায় অন্যরকম আনন্দ পান ভ্রমণকারীরা। কেউ কেউ বলে ওঠেন, ‘চলছে গাড়ি সিসিমপুরে, আনন্দতে মাখা আর হাসিখুশি ভরা আমাদের নলামপুরে।’ ২০ মিনিট পর গাড়ি পৌঁছায় বংশী নদীর উপকণ্ঠ নলাম ব্রিজে। গাড়িতে চলা ও ব্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ছবি তুলতে ভুল করেননি গবিসাসের বর্তমান দপ্তর সম্পাদক অনিক আহমেদ।

দুটি নৌকা ভাড়া করা হয় ঘণ্টাখানেকের জন্য। সবাই ধীরে ধীরে নৌকায় উঠে বসেন। শান্ত নদীর সঙ্গে নিরিবিলি ছিল চারপাশের পরিবেশটাও। শান্ত পরিবেশকে মাতিয়ে তুলতে প্রথমেই গান ধরেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রোকনুজ্জামান মনি এবং সঙ্গে তাল মেলান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রনি খাঁ ও অন্য সদস্যরা: ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’, ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘সব সখীরে পার করিতে নিবো আনা আনা’ প্রভৃতি গানে জমে ওঠে পরিবেশ।

এরপর হঠাৎ সন্ধ্যা নেমে আসে। চারদিকের স্তব্ধতা আরও বেড়ে যায়, কিন্তু ছবি তোলায় সবার বিরাম নেই। একের পর এক অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তুলতে থাকেন সবাই। গান গাইতে গাইতে সবাই যখন ক্লান্ত তখন বাঁশির সুরে সবাইকে মুগ্ধ করেন মাঝি। তার মনমাতানো বাঁশির সুর সবাইকে আকৃষ্ট করে গভীরভাবে। তবে তার

বিরহভরা প্রেমের কাহিনি পরক্ষণে ব্যথিত করে সবার মন। অজানা অনুভূতি কাজ করে সবার মনে। ভ্রমণটি অল্প সময়ের জন্য হলেও একসঙ্গে সবার উপস্থিতিতে যে নৌকাভ্রমণের আয়োজন করা হয়, তার রেশ রয়ে যায় সবার প্রাণে। এ আনন্দঘন ভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন গবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসিফ আল আজাদ। তিনি বলেন, ‘ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সব সময় আনন্দের। তা যদি হয় নৌকাভ্রমণ তাহলে তো কথা নেই। ভালো লাগছে গবিসাসের বর্তমান সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে।’

মাঝ নদীতে হঠাৎ সন্ধ্যা গাঢ় হওয়ার পর চাঁদ তার অপূর্ব জ্যোৎস্নালোকিত রূপ নিয়ে হাজির হয়। নদীর বুকে জ্যোৎস্নার দৃশ্য যে কতখানি মনোমুগ্ধকর, তা না দেখলে বোঝা যাবে না। চারদিকের নীরবতার মধ্যে পানির ছলাত-ছলাত শব্দ অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা সৃষ্টি করেছিল। অল্প সময়ের এ ভ্রমণ হƒদয়ে গেঁথে থাকবে স্মৃতির পাতায় অনেক দিন।

সাংগঠনিক সম্পাদক এ ভ্রমণ সম্পর্কে  বলেন, প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে খুব ভালো লাগে। প্রকৃতির কাছে গেলে কেমন যেন এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করি। মনে হয় সবকিছু অনেক সহজ হয়ে যায়। এবারের নৌকাভ্রমণ ছিল অন্যরকম এক আনন্দের, সবাই গলা ছেড়ে একরাশ জলরাশির মধ্যে গান গাচ্ছিলেন, মাঝি বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, গানের সুর প্রতিধ্বনি হয়ে বারবার কানে বাজছিলÑএ অনুভূতি অল্প কথায় বোঝানো যাবে না। সেদিন বারবার ভেবেছি, রাতটা যদি শুধু নৌকায় থেকে বাঁশি শুনে কাটিয়ে দিতে পারতাম, তাহলে বেশ হতো। কয়েক দিন পর ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব, তখন খুব মিস করব এ সময়কে।

  মো. আশিকুর রহমান

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..