মত-বিশ্লেষণ

সাইবার নিরাপত্তা ও আমাদের সচেতনতা

ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে সাইবার ক্রাইম বা  প্রযুক্তিগত অপরাধও। অনেকেই সাইবার ক্রাইম শব্দটির সঙ্গে হয়তো পরিচিত নয়। পরস্পর নেটওয়ার্ক দ্বারা সংযুক্ত যন্ত্রসমূহ ব্যবহার করে যখন কোনো অপরাধ করা হয় তখন তাকে সাইবার ক্রাইম বলে। এ ধরনের অপরাধে যুক্তদের সাইবার অপরাধী বলে।

হামলাকারীরা বাংলাদেশ সরকারের কভিড-১৯-এর টিকা দিতে নিবন্ধনের জন্য যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেটির আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে আকর্ষণ বা ফিশিংয়ের চেষ্টা করে বলে জানানো হচ্ছে। ফলে চুরি হয়ে যাচ্ছে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য।

কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ই-মেইল ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অপরিচিত কারও ই-মেইলে দেয়া লিঙ্কে ক্লিক করা যাবে না। সন্দেহজনক ই-মেইল থেকে কখনও ফাইল ডাউনলোড করবেন না। হ্যাকাররা নকল লিঙ্কগুলোকে আসলের মতো করে উপস্থাপন করে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পাসওয়ার্ড ব্যবহার এর ক্ষেত্রে জটিল, একইসঙ্গে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। পাসওয়ার্ড বা কিপার’র মতো পাসওয়ার্ড ম্যানেজারও ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কোন ই-মেইলে লগইন পেইজের লিঙ্ক দেয়া থাকলে সেখানে ক্লিক না করে, ব্রাউজারে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে লগইন করুন। কম্পিউটার, ফোন ও ট্যাবে ব্যবহƒত সফটওয়্যারগুলো হালনাগাদ করা থাকতে হবে। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের মতো অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর ব্যবহার করা যেতে পারে। পিসিতে লুকানো ভাইরাস বা রুটকিট শনাক্ত করা খুব কঠিন, যা কেবল অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করেই করা যেতে পারে।

সাইবার হামলা এখন সারা পৃথিবীরই মাথাব্যথার কারণ। তাই আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। পাসওয়ার্ড হ্যাকিং, ই-মেলের নিরাপত্তা, অনলাইনে প্রলোভন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সাইট থেকে বিপদ, এটিএম কার্ডজনিত বিপদ, নেট ব্যাংকিং ও মোবাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারের আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনগণের সচেতনতাই পারে সাইবার আক্রমণ থেকে সবাইকে নিরাপদ রাখতে।

রফিউল কলিম রিফাত

শিক্ষার্থী

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..