বিশ্ব সংবাদ

সাইবার হামলা করে ২০০ কোটি ডলার হাতাল উ. কোরিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নিজস্ব অস্ত্র কর্মসূচির পেছনে অর্থ ঢালতে সাইবার আক্রমণ করে ২০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গোপন ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রিপটোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো লক্ষ করে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশে হামলা চালায়। খবর: বিবিসি।
গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে চতুর্থবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা ঘটাল দেশটি। গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জানাতেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছেন। এ যৌথ মহড়াকে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে পিয়ংইয়ং।
জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী পিয়ংইয়ং ১৭টি দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও ডিজিটাল মুদ্রার (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বিনিময়কে লক্ষ্যবস্তু করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের ৩৫টি লেনদেন বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করে দেখছেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিপটোকারেন্সি বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ফলে তাদের যে আয় হচ্ছে, তা ধরা খুব কঠিন। প্রচলিত ব্যাংক খাতের মতো এখানে কোনো নীতিমালা নেই এবং সরকারের নজরদারির বাইরে থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরযোগ্য ব্যাপক ধ্বংসযোগ্য অস্ত্র রেখে জাতিসংঘের অবরোধসংক্রান্ত নিয়ম ভেঙেছে উত্তর কোরিয়া।
২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সেখানে কয়লা, লোহা, পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
গত বছর সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের পর পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার কথা বলেছিলেন কিম জং উন। এ ছাড়া আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করার বিষয়েও সম্মত হন তিনি। পরে হ্যানয়ে আরেক সম্মেলনে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়।
এর পর থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের কথাবার্তা আটকে আছে। তবে দু’পক্ষই কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ভুক্তভোগী রাষ্ট্রকে বলা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..