দিনের খবর স্পোর্টস

সাকিবদের বিদ্রোহ, ভারত সফর অনিশ্চিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেশ আগে থেকেই অসন্তোষ জানিয়ে আসছিলেন ক্রিকেটাররা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গুরুত্বসহকারে সংবাদ প্রচারও করে। তারপরও টনক নড়েনি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির। যে কারণে গতকাল বোর্ডের বিপক্ষে একজোট হয়ে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা। এর ফলে টাইগারদের আসন্ন ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দেশের ক্রিকেট সঠিক পথে নেই। যে কারণে গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হয়ে সাকিব আল হাসান বোর্ডের বিপক্ষে ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই সময় মোট ১১ দফা দাবি পেশ করেন মুশফিক-ইমরুলরা। দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট খেলা, ক্যাম্প ও অনুশীলন থেকে বিরত থাকবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

গতকাল সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহসহ দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব বলেন, ‘আমরা জানি, সব ক্রিকেটার আমাদের সঙ্গে আছেন। যতদিন পর্যন্ত এ দাবিগুলো পূরণ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ক্রিকেটের কোনো কার্যক্রমে জড়িত থাকতে চাচ্ছি না। জাতীয় দল, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারসহ সবাই এ ধর্মঘটের অন্তর্ভুক্ত এবং সেটা আজ থেকেই। জাতীয় লিগ থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বলুন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি বলুন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বলুন- সবগুলোই এর অন্তর্ভুক্ত।’ তাদের এ ঘোষণায় আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ড ও ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্প নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

আগামী মাসে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ভারত সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে আসন্ন সিরিজ পড়ে গেছে শঙ্কায়। 

এ ধরনের ঘটনাকে প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটা দীর্ঘদিনের দুর্বল নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে ক্রীড়া সংগঠক ও লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফর রহমান বলেন, ‘এটি খুব দুঃখজনক। বিসিবি ও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এটা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বের বড় একটি ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই।’

এদিকে সামনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ব্যাপারটি মাথায় রেখে তাই এ ধর্মঘটের আওতায় রাখা হয়নি যুবাদের। আর খুব বেশি সময় হাতে ছিল না বলে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সাকিব। তবে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করতে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন তিন।

ধর্মঘট ডাকলেও সবকিছু আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের পথ খোলা রয়েছে-এমনটাই জানিয়েছেন সাকিব, ‘আলোচনাসাপেক্ষে অবশ্যই সবকিছুর সমাধান হবে। দাবিগুলো যখন মানা হবে, তখন আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাব।’

সবার মতো ক্রিকেটাররাও চান দেশের ক্রিকেটের উন্নতি। এ জন্য সতীর্থদের মতো সাকিবেরও চাওয়া সুষ্ঠু একটি পরিবেশ,‘আমরা সবাই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। এখানে ক্রিকেটারদের কেউ তিন-চার বছর খেলবে, কেউ ১০ বছর আছে। যারা ভবিষ্যতে আসবে, তাদের জন্য আমরা একটি ভালো পরিবেশ রেখে যেতে চাই, যেখান থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনে এগিয়ে যাবে।’

সাকিবরা যে ১১ দফা তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের বেতন বৃদ্ধি, বিসিবির গ্রাউন্সম্যান থেকে শুরু করে অন্যান্য বেতনভুক কর্মীর আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি। এর পাশাপাশি রয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান।

সর্বশেষ..