সম্পাদকীয়

সাক্ষরতার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগী হোন

সাক্ষরতার হার বছর শেষে এক শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ পরিসংখ্যানে দেশের অনেকেই স্বস্তির ঢেকুর তুললেও আমাদের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেবল নিজের নাম লিখতে পারাকেই সাক্ষরতা বলা চলে না। এমনকি মাধ্যমিক থেকে স্নাতক সনদধারী অনেক নাগরিকও সাক্ষরতার সংজ্ঞায়নে বর্তমানের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। সাক্ষরতা ও শিক্ষার তুলনামূলক সম্পর্ক এবং শিক্ষাগত মান অর্জনের অধোগতি বিশ্লেষণে সার্বিকভাবে হতাশাজনক চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা সাক্ষরতার প্রকৃত গুণ ও মান দেশের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৯০১ সালের লোকগণনায় নিজ নামে ব্যবহার করা অক্ষর লেখার যোগ্যতাকে এ অঞ্চলের সাক্ষরতা বোঝানো হলেও শত বছরের ব্যবধানে ধারণাটির বিবর্তন ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চল্লিশের দশকে পড়ালেখার দক্ষতা, ষাটের দশকে সাধারণ হিসাব-নিকাশ এবং আশির দশকে সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পঠনের সক্ষমতা। বর্তমানে যোগাযোগ, ক্ষমতায়ন, জীবননির্বাহ, প্রতিরক্ষা ও সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনও সাক্ষরতার মানদণ্ডে স্থান পেয়েছে। অথচ ক্ষমতায়ন, জীবননির্বাহ, প্রতিরক্ষা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পাস নাগরিককেও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে এবং তারা সত্যিকার অর্থেই সনদধারী শিক্ষিত হলেও বর্তমানের সাক্ষরতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। সাক্ষরতার হার জরিপে এসব সূচকের গুরুত্বারোপের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
আমাদের চলমান উন্নয়নের ধারায় ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ সাক্ষরতার হারটিকে সন্তোষজনক বলা চলে না। আবার শিক্ষার মানেও রয়েছে প্রশ্ন। কিন্তু প্রাথমিক ও জরুরি বিষয় হিসেবে সাক্ষরতার হারে ও গুণগত মানে যদি প্রশ্ন ওঠে, তবে দেশের অবকাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই উন্নয়নকে প্রশ্নাতীত বলা যাবে না। জনগণকে টেকসই উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে হলে শতভাগ মানসম্পন্ন সাক্ষরতার বিকল্প নেই। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি গণসাক্ষরতা ও উপ-আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে সচেতনতা, যোগাযোগ, ক্ষমতায়ন, জীবননির্বাহ, প্রতিরক্ষা ও সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনের মতো কয়েকটি সূচককে অবহেলা করা অবশ্যই ব্যুমেরাং বলে বিবেচিত হবে। শতভাগ সাক্ষর কোনো দেশ পৃথিবীতে অনুন্নত নয়। টেকসই উন্নয়নের ধারায় কর্মসূচিগুলোকে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাতে তাই এর সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দেশের টেকসই উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে সাক্ষরতার হার শতভাগে পৌঁছানো ও তার গুণগত মান নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে। সেইসঙ্গে শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধিকে গুরুত্বারোপ করা হবে বলে আশা রাখি।

সর্বশেষ..