প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাগরে কয়লাবাহী কার্গো ডুবি

 

খুলনা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টের অদূরে এক হাজার টন কয়লা নিয়ে ডুবে গেছে এমভি আইজগাতি নামের একটি কার্গো জাহাজ। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলা বন্দরে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় কার্গোটিতে থাকা ১২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেউ নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলের উদ্দেশে মোংলা কোস্টগার্ডের একটি দল রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাদার ভ্যাসেলে শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্টিভিডরস নূরু অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এইচএম দুলাল জানান, বঙ্গোপসাগরের ফেয়ার ওয়ের ১২ নম্বর লাল বয়া এলাকায় অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল এমভি লেডি মেরি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে কার্গো জাহাজ এমভি আইজগাতি কয়লা বোঝাই করে। শুক্রবার ভোরে কার্গো জাহাজটি মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ফেরার পথে ঘনকুয়াশা ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে দিক হারিয়ে ডুবো চরে আটকে তলা ফেটে ডুবে যায়। এরপর কার্গো জাহাজের মাস্টারসহ নাবিকরা সমুদ্রে ভাসতে থাকলে আরেকটি জাহাজের লোকজন নাবিকদের উদ্ধার করে।

মাদার ভ্যাসেলের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এইচটি বদিউল আলম জানান, ডুবে যাওয়া কয়লার মালিক ও আমদানিকারক যশোরের নওয়াপাড়া ট্রেডার্স। আর ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটির মালিক খুলনা নৌপরিবহন মালিক সমিতির মেম্বার ফারুক কাজী।

মোংলা কোস্টগার্ডের অপারেশন কর্মকর্তা লে. রাহাতুজ্জামান জানান, কার্গোডুবির খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের দুটি দল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে ঘটনাস্থল মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। সমুদ্রের মধ্যে এবং দুর্গম যাতায়াতব্যবস্থার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কার্গোটিতে সঠিক কতজন নাবিক ছিল কিংবা কেউ নিখোঁজ আছে কি না, তাও তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। কেননা ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক নেই। যে

কারণে কোস্টগার্ডের অপারেশন দল ফিরে না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, হিরণ পয়েন্ট ও ফেয়ারওয়ের ১২ নম্বর লাল বয়া এলাকায় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটি ডুবে আছে, যা বন্দরের মূল চ্যানেল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এ কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন ও নির্গমনে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।