শেষ পাতা

সাড়ে ১২ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য

অনুমোদন হলো দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) অনুমোদন পেয়েছে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর আগে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল মেয়াদি যে প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল, তার অনেক লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। নতুন পরিকল্পনায় সংশোধিত আকারে সেসব লক্ষ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এ পরিকল্পনা অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা।

পরিকল্পনার খসড়াটি প্রণয়ন করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। সভায় খসড়ার ওপর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জিইডির সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে এ প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গড় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ শতাংশ। আর যে বছর এ পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হবে সেই ২০৪১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮০ বছর। পাশাপাশি গড় মাথাপিছু আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার ডলার। বর্তমানে যা এক হাজার ৯০৯ ডলার। আর দারিদ্র্য তিন শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। বর্তমানে যা ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

বৈঠক শেষে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন, জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, উন্নত দেশে যেতে এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর হবে কি না, সেটি পরের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের ইকোট্যুরিজম রক্ষায় বর্তমানে সেখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আপাতত দ্বীপটি যেমন আছে, তেমনি রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেছেনÑযে কোনো ডকুমেন্ট সহজ, সরল ও সুন্দর বাংলায় লিখতে হবে। তাছাড়া প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি তৈরির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ২০১৭ সালের তথ্য ধরা হয়েছে। সেটি আপডেট করতে হবে। পরিকল্পানাটির শুরুতেই একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বাড়াতে হবে। বয়স্ক ও স্বামী পরিত্যক্তাদের বেশি করে ভাতার আওতায় আনতে হবে। ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বিশ্বব্যাপী শোনা যাচ্ছে। ঝড় যখন আসবে তখন আমরা মোকাবিলা করব। তাই বলে ঝড় আসার আগেই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখাটা ঠিক হবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনো পরিকল্পনাই হোক নিজস্ব সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হবে। আগে বৈদেশিক সহায়তা নির্ভর ছিল আমাদের অর্থনীতি। এখন অনেক অগ্রগতি হওয়ায় সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।  

ড. শামসুল আলম জানান, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পনায় ব্লক চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স, আইওটি ইত্যাদি বিষয় যুক্ত করতে হবে। এছাড়া বৈঠকের আলোচনায় এসেছে খরা ও  লবণাক্ত সহিষ্ণু জাতের ফসল আবিষ্কার বাড়াতে হবে। মাটি ছাড়া ভাসমান চাষ পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। 

যেসব বিষয়ে বিশেষ নজর: পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্য হ্রাস, ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি। পরিকল্পনায় আরও যেসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছেÑদক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, যোগাযোগ খাতের বিশেষ উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়। অর্থাৎ একটি দেশে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে যা যা প্রয়োজন তার প্রায় সবকিছুই পকিল্পনাটিতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..