প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাতক্ষীরায় আমের ফলন কম, দাম বেশি

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে এবং স্বাদে, গুণে ও মানে অনন্য হওয়ায় দেশ ছেড়ে বিদেশে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৪ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও পর্তুগালে। কভিডের কারণে আম রপ্তানি বন্ধ থাকার পর এবার ১৫ মে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ কেজি গোবিন্দভোগ আম পাঠানো হয় হংকংয়ে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে বাজারজাত হয়েছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপখাস ও বৈশাখীসহ অন্যান্য স্থানীয় জাতের আম। ১৬ মে হিমসাগর, ২৪ মে ল্যাংড়া আসবে এবং ১ জুন থেকে আম্রপালি আম হার্ভেস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বছর ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে জেলায় আমের আবাদ হয়েছে। আবাদ বাড়লেও এ বছর ৫০ ভাগ আমগাছে মুকুল আসেনি। উল্লেখ্য, জেলায় ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষি রয়েছে।

আম রপ্তানিতে নিয়োজিত তালা উপজেলার উত্তরণ সফল প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বছর ১৫ মে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ কেজি গোবিন্দভোগ আম হংকংয়ের বাজারে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডে হিমসাগর আম রপ্তানি করা হবে। এবারও সরকারের সহযোগিতায় ও নেদারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক উত্তরণ সফল প্রকল্পের মাধ্যমে আম রপ্তানি করছে। কোথাও কোনো অনিয়ম যাতে না হয় সেজন্য বাগান থেকে কার্টন করা পর্যন্ত কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আমচাষি সমিতির সভাপতি লিয়াকাত হোসেন বলেন, গত দুই বছর কভিড ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে চাষিরা আমচাষে লোকসানে আছেন।  চলতি মৌসুমে ফলন তুলনামূলক অনেক কম। তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আশানির কারণে চাষিদের আগাম জাতের আম পাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে অপুষ্ট হীমসাগর আমও পেড়েছেন। ফলে সাতক্ষীরার আমের সুনাম নষ্ট হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার আম ব্যবসায়ী কাওছার আলী শেয়ার বিজকে বলেন, এ বছর ১০ লাখ টাকায় ১২টি আম বাগান কিনেছি। গাছে ফলন খুব কম। সাতক্ষীরার প্রসিদ্ধ আম হিমসাগর। এ আম এ বছর গাছে এসেছে শতকরা ৩০ ভাগ। এভাবে অন্য সব আম গাছেও ফলন খ্বু কম হয়েছে। তিনি জানান, এ বছর ৩ লাখ টাকা লোকসান যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছর ৬০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে। যার মধ্যে শুধু সাতক্ষীরা থেকে যাবে ১০০ মেট্রিক টন আম। এ বছর বিদেশে আম রপ্তানিতে সাতক্ষীরার ৫০০ চাষিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ১৯ মে থেকে ইউরোপের বাজারে আম পাঠানো শুরু হবে। জেলায় এ বছর আমের ফলন খুব কম হয়েছে। ৫০ ভাগ গাছে মুকুল আসেনি। আমগাছে যখন মুকুল আসবে, ঠিক তার আগ মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় আমচাষিরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার আম চাঁপাই ও রাজশাহীর চেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে হার্ভেস্টিংয়ের সুবিধা থাকায় দেশে-বিদেশে বেশ গুরুত্ব পায়।