Print Date & Time : 30 October 2020 Friday 10:44 pm

সাতক্ষীরায় গরুর চামড়ার দাম ২৫০ টাকা

প্রকাশ: August 6, 2020 সময়- 12:54 am

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় এবার কোরবানির ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়নি। আর গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও জেলার সব উপজেলায় চামড়ার দামে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে। বিক্রেতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কোরবানির পশুর চামড়ার দামে এবার বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

কোরবানির ঈদের দিন থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পৌরসভা এলাকার অধিকাংশ এলাকার চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়া কোনো ব্যাপারী কিনছেন না। কেউ কেউ ছাগলের চামড়া বিক্রি পারলেও তার দাম পেয়েছে নামাত্র মূল্যে ১০ থেকে ৩০ টাকা।

কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের গ্রামডাক্তার নজরুল ইসলাম জানান, কোরবানির উদ্দেশ্যে তারা তিন ভাই তিনটি গরু ও দুটি ছাগল জবাই করেন। এর মধ্যে গরু তিনটির চামড়া ১৫০ ও ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলেও ছাগলের চামড়া অবিক্রীত রয়ে গেছে। উপজেলার পৌর এলাকার তুলশিডাঙ্গা গ্রামের আনসার আলী অপেক্ষা করছিলেন ভালো দাম পেলে চামড়া বিক্রি করবেন। কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় রাগে ক্ষোভে ছাগলের চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।

কলারোয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা টেলিকম ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, ‘আগে কোরবানির দেওয়ার আগেই চামড়ার দাম বাসায় দিয়ে যেত। যেন অন্য কাউকে চামড়া না দিই। এবার আমার ১২ হাজার টাকা মূল্যের ছাগলের চামড়া কেউ দাম বলেনি। অবশেষে সন্ধ্যায় নিজে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেছি।’

তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বড় মাদরাসার শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, ‘কোরবানির ঈদের দিন ৪৫৫ পিস গরুর চামড়া পেয়েছি। ব্যাপারীরা চামড়াপ্রতি ১৫০ টাকা দাম দিয়েছে। ছাগলের চামড়া বিনা মূল্যেও নিতে রাজি হয়নি। বিক্রি না করে এগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছি। আশা করছি, চামড়া প্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দাম পাব।’

সাতক্ষীরা শহরের এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, এবার কোরবানিতে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা দামের আটটি গরুর চামড়া ২৫০ টাকা প্রতিটি বিক্রি করতে হয়েছে। ছাগলের চারটি চামড়া গরুর চামড়ার সঙ্গে বিনা মূল্যে দিয়েছি।

পৌরসভায় কামালনগরের বাসিন্দা একটি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ ২৫০ টাকার ওপরে দাম বলছেন না। বাধ্য হয়ে সবাইকে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরিবরা।

আড়তদার আবুল কাশেম বলেন, ‘গরুর চামড়া যেটা খুব ভালো সেটা ২০০ টাকা দিয়ে কিনছি। অধিকাংশ চামড়া নষ্ট করে ফেলেছে, যার জন্য কম দাম বলা হচ্ছে। এগুলো ঢাকায় নিয়ে গেলে আমরাও ভালো দাম পাব না। ঢাকায় ছাগলের চামড়া নেয় না, তাই আমরাও কিনছি না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ গরুর চামড়ার সঙ্গে এমনিতেই ছাগলের চামড়া দিয়ে যাচ্ছে। তখন ১০ থেকে ২০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এখানে আমরা যেগুলো কিনছি সেগুলো লবণ ছাড়া। প্রতিটি চামড়ায় পরিবহন খরচ, লবণ খরচ, শ্রমিকের মজুরিসহ আরও ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে।’