দিনের খবর সারা বাংলা

সাতক্ষীরায় দেশের প্রথম গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: দেশের দ্বিতীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা সাতক্ষীরায় গবাদিপশুর জীবন বিমা পলিসির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রডাকশন ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন নামে এ প্রকল্প প্রাণ ডেইরি লিমিটেড ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসিডিআই/ভোকা (যুক্তরাষ্ট্র)।

খামারিদের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ পাইলট প্রকল্পের আওতায় গরুর মোট দাম ধার্য করে গরুর মালিকরা নির্ধারিত বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা দিয়ে গরুর জীবন বিমা করতে পারবেন।

তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের জিয়ালা নলতা গ্রামের দুগ্ধ খামারি অরুণ ঘোষ বলেন, গরুর জন্য এই জীবন বিমা পলিসি খামারিদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বেগবান করবে।

এই বিমা কার্যক্রমের আওতায় গরুপ্রতি বার্ষিক দুই হাজার টাকা প্রিমিয়াম জমা দিয়ে বিমা পলিসি করতে হবে। গরুর কোনো অসুখ হলে চিকিৎসা খরচ দেবে বিমা কোম্পানি। মারা গেলে গরুর দামের হিসেবে প্রতি লাখে ৯০ হাজার টাকা পাবে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মালিক।

দুগ্ধ খামারিদের অভিমত, এ উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে খামারিরা সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি নতুন খামার গড়ে উঠবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

এ পাইলট কার্যক্রমের এসিডিআই ও ভোকার মাঠ সমন্বয়কারী ডা. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম সাতক্ষীরায় দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে শুধু সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাভা, ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন ও তালা উপজেলার খলিষখালী, ইসলামকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নের খামারিরা এই সুবিধা পাবেন। পরবর্তী সময়ে অন্য উপজেলা ও জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। চলতি জুনে পাইলট প্রজেক্ট শেষ হচ্ছে। শিগগির দ্বিতীয় ফেজে কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, এই পাইলট প্রকল্পে ৫০০ খামারিকে টার্গেট করা হলেও মহামারির কারণে এবার ৩৩৯ খামারির ৩৫০টি গরু এই বিমার আওতায় এসেছে।

খুরা রোগসহ বিভিন্ন কারণে গরুর আকস্মিক মৃত্যু হলে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বিমাকারী গরুর আর্থিক দায়ভার বহন করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে গরুর প্রকৃত দামের ৯০ শতাংশ খামারিকে দেবে।

সাতক্ষীরা প্রাণ চিলিং সেন্টারের ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুগ্ধ খামারিদের বিমা করতে গরু প্রতি যে টাকা খরচ করা হচ্ছে, তার ওপর প্রাণ চিলিং সেন্টার ৪০ শতাংশ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ৩২৬ খামারির ৩৪৯টি গরুর বিমা করতে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে জেলাব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি মনে করেন, এর মধ্যে অন্য খামারিরাও এ বিমা সুবিধা নেবেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গবাদি পশুর নিরাপত্তায় দেশে এই প্রথম বিমা চালু হয়েছে। কার্যক্রমটি পুরোপুরি চালু হলে জেলার খামারিরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি নতুন খামার গড়ে উঠবে। দুগ্ধশিল্পের উন্নয়ন হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..