সারা বাংলা

সাতক্ষীরায় শেষ মুহূর্তে প্রতিমা সাজাতে ব্যস্ত শিল্পীরা

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আর দিগন্তজোড়া কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসবের। দশভুজা দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় উল্লসিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দেবী দুর্গাকে বরণ করতে পূজামণ্ডপগুলোয় লেগেছে উৎসবের আমেজ। সাতক্ষীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। এবারে দেবী আসবেন দোলায় চড়ে, আর ফিরে যাবেন গজে চড়ে। দেবীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। কোথাও চলছে মাটির কাজ, আবার কোথাও প্রতিমাকে রাঙিয়ে তোলার কাজে ব্যস্ত তারা।

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, এবার কভিড-১৯-এর কারণে অনেকটা ভাটা পড়েছে দুর্গা উৎসবের। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এবার ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, থাকবে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান র‌্যালি বা রং মাখামাখির আয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ২২ অক্টোবর শুরু হবে দুর্গাপূজা।

জানা গেছে, বিগত বছর জেলার ৫৮৪টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫৯টিতে। করোনার কারণে গত বছরের চেয়ে এবার ২৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হচ্ছে না। প্রতি বছরই মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও এবার কমেছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী যেবার দেবীর আগমন দোলায় হয়, সেবার মর্ত্যে মড়ক লাগে এবং গজে গমন হলে পৃথিবীতে শস্যে পরিপূর্ণতা আসে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এ বিশ্বাস প্রচলিত।

সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মায়ের বাড়ি মন্দির, কাটিয়া মন্দির, নারকেলতলা মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল-তিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমায় রং-তুলির কাজ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অধিকাংশ মন্দিরে মায়ের আগমন উপলক্ষে এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মৃš§য়ী প্রতিমা ধীরে ধীরে দেবীরূপ ধারণ করছে।

সাতক্ষীরা সদর থানা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন শীল বলেন, করোনা মহামারি থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তির প্রার্থনা জানিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন মন্দিরে চলছে আলোকসজ্জার কাজ। কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সনাতন ধর্মীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পালনে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতিও গ্রহণ করছেন সনাতন ধর্মের মানুষ। দেবী দুর্গাকে বরণ করার পাশাপাশি পূজাকে আরও রঙিন করে তুলতে প্রস্তুত পূজারিরাও।

এদিকে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। করোনার প্রভাব পড়েছে প্রতিমাশিল্পীদের ওপরেও। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপনের জন্য প্রতিটি মন্দিরের অনুকূলে  সরকারিভাবে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পূজা আয়োজনে সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে জেলা পুলিশ সতর্ক থাকবে। সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, সেজন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটা মণ্ডপে একসঙ্গে ২০ জনের বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে মাস্ক পরিধান করে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি মন্দিরের প্রবেশমুখে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মন্দির কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরগুলোতে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..