দুরে কোথাও

সাতগাছিয়া মসজিদ

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনেক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনি একটি দর্শনীয় স্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারোবাজার। কালের বিবর্তনে টিকে থাকার পাশাপাশি গৌরব ভরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এখানকার কীর্তিগুলো। এগুলোর একটি সাতগাছিয়া মসজিদ। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন মো. হাসানুজ্জামান পিয়াস

সাতগাছিয়া আদিনা মসজিদ বা সাতগাছিয়া গায়েবানা মসজিদ বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ ও প্রতœতাত্তি¡ক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আয়তকার এ মসজিদটি বারোবাজারে আবিষ্কৃত মসজিদগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।

বারোবাজার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে সাতগাছিয়া গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। এখানে স্থানীয়রা ১৯৮৩ সালে বিরাট এক মাটির ঢিবির কিছু অংশ খনন করেন। ওই সময় ১৬টি থাম ও পাঁচটি মেহরাববিশিষ্ট মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। এরপর ১৯৯০ সালে প্রতœতত্ত¡ অধিদফতর খননকাজ সম্পন্ন করে ৪৮টি স্তম্ভের ওপর ৩৫ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়।

সাতগাছিয়া মসজিদটি বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের অনুরূপ। বিরাট আকারের এ মসজিদটির পূর্বে সাতটি, উত্তরে তিনটি ও দক্ষিণে পাঁচটি দরজা রয়েছে। পশ্চিমে একটি দরজা থাকলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পূর্বদিকে বেশি দরজা থাকায় ওদিকটিকে মসজিদের সম্মুখভাগ ধরা হয়। মসজিদের চওড়া দরজাগুলোর ওপরে সরু খিলানের বক্র রয়েছে। যদিও খিলানগুলো আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। মসজিদের মেঝে তিনটি প্ল্যাটফর্মে বিভক্ত। পশ্চিম দিকের কেবলা দেয়ালে মেহরাবগুলো ফুল, ফুলের কড়ি, পাতা, ঘণ্টা, চেইনের পোড়ামাটির নকশাসমৃদ্ধ। প্রতœতত্ত¡বিদরা মনে করেন, বিশাল আকৃতির সাতগাছিয়া মসজিদটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত। ধারণা করা হয়, হজরত খানজাহান আলী তাঁর অনুচরদের নিয়ে ইসলাম প্রচারে বাংলায় আসেন। ওই সময় তার অনুচর কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। পরে এটি মাটিচাপা পড়ে যায়।

রাজধানী থেকে খুব সহজে এখানে যাওয়া যায়। যশোর থেকে বারোবাজারের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। রাজধানী থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে চড়ে সরাসরি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছানো যায়। ঝিনাইদহ হয়ে কালীগঞ্জ যাওয়ার দূরপাল্লার বাসের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ লাইন, দর্শনা ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, রয়েল ও সোনার তরী। চাইলে ট্রেন কিংবা বিমানযোগেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে যশোর নামতে হবে। যশোর থেকে সরাসরি বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় বারোবাজার যেতে পারেন। হ

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..