দিনের খবর প্রথম পাতা

সাত কোম্পানির হালনাগাদ তথ্য খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির বর্তমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম, সার্বিক লেনদেন চিত্র, আইন-রীতি ও নীতি অনুসরণ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য ডিএসই ও সিএইকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার  লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, কাট্টলী টেক্সটাইল লিমিটেড এবং আমান ফিড লিমিটেড। এর মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানি ঋণের দায়ে জর্জরিত।

সূত্রে জানা যায়, এসব কোম্পানির হালনাগাদ তথ্য অর্থাৎ বর্তমানে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অবস্থা, আর্থিক লেনদেনচিত্রসহ সার্বিক তথ্যে যাচাইয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয় বিএসইসি কমিশন। কোম্পানিগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের চিফ রেগুলেটরি অফিসারকে গত ২২ এপ্রিল কমিশন চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়। কমিশন রেগুলেশন ৫৪(১) অনুসারে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়, যা কমিশনের সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এবি ব্যাংক লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড ব্যবসার প্রয়োজনে এবি ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখা থেকে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে। কিন্তু ঋণের পাওনা পরিশোধে গত ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি এবি ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখাকে ২১৬ কোটি টাকা একটি চেক প্রদান করে। (চেক নাম্বার ৪৩১৭৪০৮) পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি নগদায়ন করার জন্য উপস্থাপন করলে জানানো হয়, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে চেকটি ডিসঅনার হয়।

এ বিষয়ে নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটারের চেয়ারম্যান রেহানা বেগম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে নুরুল আলমকে আইনি নোটিসের মাধ্যমে অবহিত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কয়েক বছর ধরে তেমন বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল নেই। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা জটিলতায় বন্ধ আছে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা। এমনকি লিজ জমির পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় জমি মালিক জমির দখল নেয়। এছাড়া অধিকাংশ শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় চাকরি নেন। চুক্তি অনুসারে সর্বশেষ দুই বছর কোনো জাহাজ ডেলিভারি দিতে পারেনি। ফলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায় করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের একজন ক্রেতার প্রতিনিধি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন মেরিন আমাদের চুক্তি অনুসারে জাহাজ সরবরাহ করতে পারেনি। অথচ পাওনার অতিরিক্ত টাকা তারা নিয়েছেন। এখন পুরো কোম্পানি বিক্রয়ের জন্য আমাদের চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মোট ব্যাংকঋণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। আমরা ওয়েস্টার্ন মেরিনের সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’     

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে একাধিক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের অনেক কোম্পানি ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসে। ফলে তালিকাভুক্ত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে লোকসান কিংবা বন্ধ হয়ে যায়। এখনও যেসব কোম্পানির উৎপাদন ও আর্থিক বিষয় তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সবগুলো দুর্বল কোম্পানি। এটা বিএসইসির একটি ভালো উদ্যোগ। অন্তত সিএনএ টেক্সটাইল কিংবা ইউনাইটেড এয়ারের মতো মালিকানাবিহীন কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার আগে যেন বিনিয়োগকারী পুঁজি রক্ষা করতে পারেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, কাট্টলী টেক্সটাইল লিমিটেড এবং আমান ফিড লিমিটেড ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য বিএসইসি একটি চিঠি দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে কমিশনকে যথাসময়ে জানাব।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..