বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

সাত ক্যাটেগরিতে বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেবে এইচএসবিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাত ক্যাটেগরিতে প্রথমবারের মতো ‘ফার্স্ট এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ দিতে যাচ্ছে দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড বাংলাদেশ (এইচএসবিসি)। দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এইচএসবিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এইসএসবিসি বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান তালুকদার নোমান আনোয়ার, উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. মাহবুব উর রহমান ও গ্লোবাল ট্রেড এবং রিসিভেবল ফাইন্যান্স বিভাগের কান্ট্রি হেড মুহাম্মদ শহিদুজ্জামান।

মাহবুব উর রহমান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, বাংলাদেশ সেগুলোর একটি। কিন্তু বাংলাদেশের অগ্রগতির এ গল্পটা বিশ্বব্যাপী খুবই কম আলোচিত। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে এক ধরনের আন্তর্জাতিকতা রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এইসএসবিসির বড় অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হয়, তার ৯ থেকে ১০ শতাংশ সংঘটিত হয় এইচএসবিসির মাধ্যমে। তাই আমরা এ উদ্যোদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যে আরও বেশি মাত্রায় যুক্ত হতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ‘এ অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বিক সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণে নানা বৈশ্বিক সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দিচ্ছি। বিশ্ববাণিজ্যে যা বিগত ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা করে আসছি।’ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের বেশ কিছু বড় প্রকল্পে এইচএসবিসি বড় অঙ্কের বিনিযোগ সংগ্রহ করেছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন তালুকদার নোমান আনোয়ার বলেন, বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, পরিচালন প্রক্রিয়া, ডাইভারসিটি ও রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স প্রভৃতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীকে এইচএসবিসির গ্রাহক হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি মাসের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নমিনেশন জমা দেওয়া যাবে। এ সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী বছরের ১৮ জানুয়ারি পুরস্কৃত করা হবে। নমিনেশন ফরম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে নঁংরহবংং.যংনপ.পড়স.নফ/নবধ-এ ওয়েবসাইটে।

যেসব ক্যাটেগরিতে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন গ্লোবাল ট্রেড ও রিসিভেবল ফাইন্যান্স বিভাগের কান্ট্রি হেড মুহাম্মদ শহিদুজ্জামান। যেসব ক্যাটেগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে সেগুলো হলোÑপ্রথমত; তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অসামান্য অবদান (এক্ষেত্রে বার্ষিক রপ্তানি আয় কমপক্ষে পাঁচ কোটি ডলার হতে হবে), দ্বিতীয়ত; পোশাক রপ্তানিতে সাপ্লাই চেইন ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক রপ্তানি আয় কমপক্ষে এক কোটি ডলার হতে হবে।

তৃতীয়ত; রপ্তানিতে অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বাইরের প্রতিষ্ঠান এ ক্যাটেগরিতে আবেদন করতে পারবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বার্ষিক রপ্তানি আয় কমপক্ষে ৩০ লাখ ডলার হতে হবে। চতুর্থত; আমদানি বিকল্প শিল্পে অসমান্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে আমদানি বিকল্প পণ্যের পরিমাণ কমপক্ষে এক কোটি হতে হবে। পঞ্চমত; অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে অসামান্য অবদান (বৈদেশিক বিনিয়োগ, প্রক্তিগত উৎকর্ষ সংক্রান্ত ইত্যাদি)।

ষষ্ঠত, ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সিলেন্স। নির্দিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান ও জিডিপি উন্নয়নে কার্যকর অবদান রখা প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে সরকারের নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা প্রকল্প বাস্তবায়কারী বিভিন্ন কোম্পানিকে পুরস্কৃত করা হতে পারে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়। সপ্তমত; স্পেশাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। এমন ব্যক্তি, ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠান যারা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন, নতুন উদ্ভাবন এনেছেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক অবদান রেখেছেনÑএমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ক্যাটেগরিতে আবেদন করতে পারবে।

এইচএসবিসি বিজনেস অ্যাওয়ার্ড প্রদানের এ আয়োজনে সহযোগী হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (ডিআইটি)। আয়োজনে সহায়তা দিবে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বিজনেস ইজ গ্রেট। নমিনেশন বাছাইয়ে বিচারক প্যানেলে থাকবেন এইচএসবিসি সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিআইটি নির্বাচিত সদস্যরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..