সারা বাংলা

সাত বছরে চালু হয়নি মুন্সীগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ: ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে ২৫০ শয্যার নতুন ভবন। নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে, কিন্তু এখনও চালু হয়নি।

বারবার আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এভাবে পার হয়েছে সাত বছর। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেছেন, ‘আমি জানি না। কবে এটা চালু হবে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই জানাতে পারবে।’ বর্তমান মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, ২০২০ সালের জুন মাসেই এটি চালু হবে। 

বর্তমানের ১০০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।

জানা গেছে, নতুন ভবনটি নির্মিত হয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রকল্পের আওতায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রতি তলার কক্ষের দরজা-জানালার কাজ শেষ হয়েছে। তবে কোনো কক্ষে বাতি ও পাখা লাগানো হয়নি। লিফটের জায়গাও ফাঁকা। প্রতি তলা ও কক্ষে ধুলাবালির আস্তরণ জমে আছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুরানী এন্টারপ্রাইজ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে দুই কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক জানান, এখনও ভবনে পানি-গ্যাস লাইন এবং ইলেকট্রিক ও লিফটের কাজ করা হয়নি। এগুলো আমাদের কাজ নয়। আড়াই বছর আগে কাজ শেষ হলেও গণপূর্ত অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাসপাতালটি বুঝে নেননি।

স্থানীয় লোকজন বলেন, দুই বছর ধরেই শুনছি নতুন হাসপাতালটি সামনের মাসে চালু করা হবে। তাদের দাবি অবিলম্বে নতুন হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করা হোক।

এদিকে প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতেও ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের সেবা। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এখানে সেবা নিতে আসেন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী। দিন যত যাচ্ছে রোগীর চাপও এখানে বাড়ছে। ভর্তি রোগীদের শয্যার বাইরে হাসপাতালের বারান্দা ও কক্ষের মেঝেতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে দেখা গেছে।

হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিলিংফ্যান নেই, যেগুলো আছে সেগুলোও ঠিকমতো চলছে না। হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহার অনুপোযোগী। পানির যথাযথ ব্যবস্থা নেই। রোগীদের ব্যবহƒত জিনিসপত্রের ময়লা স্তূপ আকারে জমা হয়ে আছে। হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের একটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দুটি সচল থাকলেও সক্ষমতা খুবই খারাপ।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, নতুন হাসপাতাল কবে চালু হবে, কীভাবে হবে, আমার এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই। আমাদের হাসপাতালটি (পুরোনো) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল ছাড়াই কোনো রকমে চলছে। নতুন ভবন চালু করতে হলে নতুন জনবল নিয়োগ দিতে হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই এখন বলতে পারবে হাসপাতালটি কবে চালু করা হবে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বি বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নতুন জনবল নিয়োগ দিয়ে গত বছরের (২০১৯ সাল) জুন মাসে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু নতুন ভবনটি কেন চালু করা হচ্ছে না, তা দ্রুত মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..