প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাত বছর আটকে আছে বিসিআইসি’র ভবন নির্মাণ

 

জাকারিয়া পলাশ : মতিঝিলের ‘হীরাঝিল’ হোটেলটি যে ভবনে অবস্থিত, সেটির মালিক বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ‘বিসিআইসি সদন’ নামে ওই ছয়তলা ভবনটির চারটি তলাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনটি ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। কিন্তু ভবনের নিচতলার ভাড়াটে হীরাঝিল হোটেল কর্তৃপক্ষের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্থগিতাদেশ আসে হাইকোর্ট থেকে। ফলে ভবন ভাঙা ও লাভজনক প্রকল্প হিসেবে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ আটকে যায়। ‘আদালতের এখতিয়ারাধীন’ হওয়ায় এ নিয়ে কিছু বলতেও পারছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হয়েছিল গত এপ্রিলের ১০ তারিখে। দুই মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিসিআইসি লিখিতভাবে জানায়, হীরাঝিল হোটেল ভবনটির স্থলে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শের আলোকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী হীরাঝিল হোটেল কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এ-প্রসঙ্গে বিসিআইসি’র সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সবাই জানে বিসিআইসি একটি লোকসানি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। এর অধীনে অনেকগুলো কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিচ্ছে। এ অবস্থায় পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করলে তা লাভজনক কাজে লাগানো যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি মীমাংসা হচ্ছে না।’

জানা গেছে, নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের পর তার নিচতলা পুনরায় হীরাঝিলকে ভাড়া দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় হীরাঝিল হোটেল কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ ভবনটি খালি না করে ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৩৯৫৫/১০) দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে গত সাত বছর ধরেই বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প আগানো সম্ভব হয়নি। তবে আদালতের মাধ্যমে হীরাঝিল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দেড় দশক আগে বিসিআইসি’র ওই ভবনটিতে প্রথম চালু হয় মতিঝিলের জনপ্রিয় এ হোটেল। হোটেলটির মূল মালিক দেশে নেই। তবে এর ম্যানেজার পদে নিয়োজিত রয়েছেন জাফর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তিনিই হোটেল পরিচালনাসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন।

জাফর চৌধুরী শেয়ার বিজকে জানান, আট বছর আগে বিসিআইসি সদনে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পরে উপরের সব তলা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো চলে যায়। শুধু হীরাঝিল হোটেলই ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে ভবনটিতে। এখনও নিয়মিত প্রথম তলার ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বিসিআইসিকে। তবে দ্বিতীয় তলার কিছু অংশে হীরাঝিল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সংস্কার করে নিয়েছে।

যদিও বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, হোটেলকে কোনো অংশ সংস্কারের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে হাইকোর্টে রিট আবেদনের কারণ সম্পর্কে জাফর চৌধুরী বলেন, আমি শুধু জানি এ বিষয়ে একটা মামলা আছে। কী কারণে মামলাটি করা হয়েছিল, তা আমার জানা নেই।

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রিট সেকশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল থেকে মামলার নথি কোর্ট-১০ (অ্যানেক্স)-এর অধীনে রয়েছে।

এ-বিষয়ে জানতে চাইলে মামলায় বিসিআইসি’র পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তোফায়েলুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, মামলাটি অনেক দিন ধরেই ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এর দ্রুত শুনানির জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু নানা কারণে বিলম্ব হচ্ছে। বিসিআইসি চাচ্ছে দ্রুত মামলাটির শুনানি করতে।