প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সাত ব্যাংকের শেয়ারে শতভাগ ক্যাপিটাল গেইন

 

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে গত এক বছরে উত্থান-পতনে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক খাত তথা তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো। গত অর্থবছরের বেশিরভাগ সময়ই নাজুক পরিস্থিতিতে ছিল ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর। তবে বাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দর বৃদ্ধির দাপট দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। বছরের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের শেয়ার থেকে শতভাগের বেশি ক্যাপিটাল গেইন (মুনাফা) করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছেÑআইএফআইসি, এক্সিম, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ন্যাশনাল, মার্কেন্টাইল, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও এসআইবিএল।

ব্যাংক খাতের শেয়ার প্রসঙ্গে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যাংকিং একটি শক্তিশালী খাত। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারী এসব শেয়ারের সঙ্গে থাকতে চান। এর একটি কারণ হতে পারে, এসব শেয়ারে লাভ না হলেও লোকসান হওয়ার শঙ্কা খুবই কম।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, (সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ দরের ভিত্তিতে) প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রতি শেয়ারে ক্যাপিটাল গেইন হয়েছে ১২২ শতাংশ। বছরের ব্যবধানে এ শেয়ারের দর ছয় টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। একইভাবে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারে ক্যাপিটাল গেইন করেছে ১১২ শতাংশ। যারা বছরের সর্বনি¤œ দরে এই শেয়ার ক্রয় করে সর্বোচ্চ দরে বিক্রি করতে পেরেছেন, তারাই এ সুবিধা পেয়েছেন।

এ ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত এক বছরের মধ্যে এর শেয়ারের সর্বনি¤œ দর ছিল ১৫ টাকা। বছরের শেষদিকে এক পর্যায়ে এ শেয়ার লেনদেন হয় ৩২ টাকা ৫০ পয়সায়। পরের অবস্থানে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার থেকে ১১১ শতাংশ মুনাফা করার সুযোগ হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সর্বনি¤œ আট টাকা থেকে বেড়ে এক সময় ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়।

একই সময় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার থেকে ১০৯ শতাংশ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন সর্বনি¤œ দরে কিনে সর্বোচ্চ দরে বিক্রি করা শেয়ারধারীরা। এ শেয়ারের দর ৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

এদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরের মধ্যে এ শেয়ার সর্বনি¤œ আট টাকা দরে কেনাবেচা হয়। পরবর্তীতে দর বেড়ে এ শেয়ার লেনদেন হয় ১৬ টাকা ১০ পয়সায়। শতাংশের হিসাবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের মুনাফা হয়েছে ১০১ শতাংশ।

তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানি এসআইবিএলের শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হয় ১০২ শতাংশ। বছরের শুরুর দিকে এ শেয়ার ১২ টাকা দরে বিক্রি হলেও শেষদিকে তা লেনদেন হয় ২৪ টাকা ৩০ পয়সায়।

ব্যাংকিং খাতের শেয়ার প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজার ধৈর্যের জায়গা। এখানে কেউ যদি ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ করতে পারেন, তবে তার মুনাফা আসবেই। তবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানি বাছাইয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান যদি ভালো মানের হয়, সে সঙ্গে বিনিয়োগ হয় দীর্ঘমেয়াদি, তাহলে মুনাফা আসার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তবে এ মুনাফা ডে-ট্রেডারদের দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ তারা অপেক্ষা করেন শেয়ার বিক্রিযোগ্য হওয়া পর্যন্ত। এর মধ্যেই তারা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে চান। আর মুনাফা না হলে বিক্রি করে অন্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। এই তাড়াহুড়োর জন্য তারা কাক্সিক্ষত মুনাফা করতে সক্ষম হন না।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..