প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সাত মাসে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছর সাত মাসে (ফেব্রুয়ারি-আগস্ট) সারা দেশে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন ৯৭ জন। সাত মাসে নিহতদের মধ্যে ৩০ নারী, ছয় শিশু, আট কিশোর-কিশোরী ও ২০২ পুরুষ রয়েছেন। জানুয়ারি মাসে বজ্রপাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং প্রসিদ্ধ অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্যের ভিত্তিতে সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ তথ্য প্রকাশ করে।
সংগঠনটির বজ্রপাতে হতাহত শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ১০ পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে আহত হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে রয়েছেন চার পুরুষ, দুই নারী ও দুই কিশোর-কিশোরী।
মার্চে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে তিন পুরুষ ও দুই শিশু রয়েছেন। এ মাসে আহত হয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে এক পুরুষ ও দুই শিশু রয়েছেন। এপ্রিলে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ পুরুষ, দুই নারী ও এক কিশোর-কিশোরী রয়েছেন। এ মাসে আহত হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে রয়েছেন সাত পুরুষ ও এক নারী।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মে ও জুনে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ছিল। মে মাসে বজ্রপাতের আঘাতে মারা গেছেন ৬০ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ৪৮ পুরুষ, আট নারী, এক শিশু ও তিন কিশোর-কিশোরী। এ মাসে ২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ পুরুষ, সাত নারী ও দুই শিশু রয়েছেন।
জুনে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৬। এর মধ্যে ১১ নারী, তিন শিশু, দুই কিশোর-কিশোরী ও ৫০ পুরুষ রয়েছেন। এ মাসে আহত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে ১২ পুরুষ, দুই নারী, তিন শিশু ও এক কিশোর-কিশোরী রয়েছেন।
জুলাইয়ে মোট নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। এর মধ্যে রয়েছেন চার নারী এবং ৪৩ পুরুষ। এ মাসে আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে দুই নারী ও ২৩ পুরুষ রয়েছেন। আর আগস্টে বজ্রপাতে মোট ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চার নারী, দুই কিশোর-কিশোরী ও ৩১ পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া এ মাসে আহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে সাত পুরুষ, দুই নারী, এক শিশু ও এক কিশোর-কিশোরী রয়েছেন।
পরিসংখ্যানে আরও প্রকাশ, বাংলাদেশে বজ্রপাতে এ বছর সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরায়। এ জেলায় চলতি বছরে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, পাবনা, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ঝড়ের সময় ধান কাটতে গিয়ে ক্ষেতে বজ্রপাতের শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে। এছাড়া মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ াঘাতে বেশি মানুষ মারা গেছে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবশত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় গাছে বজ্রপাত হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেল নির্বাহী প্রধান আবদুল আলীম, সহসভাপতি সোহেল রানা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাসুদ রানা প্রমুখ।

সর্বশেষ..