প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিক্রীত শেয়ার কিনছেন প্রাতিষ্ঠানিকরা

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজারচিত্র

শেখ আবু তালেব: দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহেও শেয়ার বিক্রির বেশ চাপ ছিল। বড় মূলধনি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে যত কম লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করা যায়, সে নীতিতে চলছেন তারা। এ সুযোগে গত সপ্তাহে সক্রিয় হয়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন।

কিন্তু এর পরও গত সপ্তাহ শেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব সূচকেরই পতন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে হারিয়েছে ৩৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক আট শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকের পতন হয়েছিল ১২৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইর সঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঘোষণা দেন, বাজারকে সহায়তা করতে দুই হাজার কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এর পুরোটাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে।

সেইসঙ্গে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান বাজারকে সহায়তা করতে। এর পরের দিন সূচকের উত্থান ঘটে। কিন্তু সেই উত্থান ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি। এছাড়া সিটি ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সহজ শর্তে ৫০ কোটি টাকা ধার দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে আইসিবিসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অল্প অল্প করে শেয়ার কেনা শুরু করেছেন। ফলে লেনদেন এখনও ৩০০ কোটি টাকার ওপরেই রয়েছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি লোকসান না গুনে অল্প লোকসানেই শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন। বিনিয়োগকারীরা জানান, এই দরপতন দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে। অনেকেই দর সংশোধন বললেও সূচক কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা জানা নেই।

এজন্য লোকসান দিয়েও শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী। কিন্তু অনেকেই আবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে লেনদেন করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাজারের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকট হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এজন্য শেয়ার হাতছাড়া করছেন তারা।

এই সুযোগে তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কিনছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ফলে ডিএসইতে গত সপ্তাহে শেয়ার লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে বেশি হয়েছে। তথ্য বলছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ লেনদেন বেশি হয়েছে গত সপ্তাহে। অবশ্য আগের সপ্তাহে ডিএসইতে এক দিন লেনদেন বন্ধ ছিল সরকারি ছুটির কারণে।

ডিএসইর তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে মোট ৩৫৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১২৮টির বা ৩৬ শতাংশ, দর কমে ২০৯টির বা ৫৯ শতাংশ, দর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির এবং লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের শেয়ার।

ডিএসইতে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বড় মূলধনি খাতের শেয়ারদরে পতন হয়েছে। শুধু ব্যাংক ও ওষুধ খাত সপ্তাহ শেষে ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। তালিকায় থাকা ব্যাংক খাতের শেয়ারদর সর্বোচ্চ দুই শতাংশ গেইন করে। অপরদিকে সর্বোচ্চ পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ লোকসান দেয় সিমেন্ট খাত।

খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ১৮ শতাংশ অবদান রাখে প্রকৌশল খাত। এছাড়া ব্যাংক খাত সাত শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত তিন শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ৯ শতাংশ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত দুই শতাংশ, ওষুধ খাত ১০ শতাংশ, টেলিকম খাত চার শতাংশ, সিরামিক খাত চার শতাংশ ও সিমেন্ট খাত এক শতাংশ অবদান রাখে।

একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে গত সপ্তাহ শেষে গেইনারের শীর্ষে রয়েছে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। শীর্ষ ১০টির আটটিই এ খাতের। সবার শীর্ষে উঠে এসেছে মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। শেয়ারটি সর্বশেষ ৩১ টাকা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট ছয় কোটি ৭৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা লেনদেন করে। এ হিসাবে গড়ে প্রতিদিন এক কোটি ৩৫ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

এছাড়া শীর্ষ ১০-এ স্থান করে নিয়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক, ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও নিটল ইন্স্যুরেন্স ।

অপরদিকে শেয়ারদর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে উঠে আসে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটি সর্বশেষ ৫২৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটি সর্বমোট ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লেনদেন করে। এছাড়া দরপতনের শীর্ষ ১০টিতে স্থান করে নেয় আরএন স্পিনিং, আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস, মোজাফ্ফর হোসাইন স্পিনিং মিলস, অরগন আর্গন ডেনিমস, এভিন্স টেক্সটাইল, ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ, জি কিউ বলপেন, ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এছাড়া সপ্তাহ শেষে লেনদেনে ডিএসইতে শীর্ষে উঠে এসেছে ন্যাশনাল টিউবস। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার ছয়টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সর্বশেষ..