সম্পাদকীয়

সানোফির কর্মীদের ন্যায্য পাওনাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

বছরখানেক আগ থেকে শোনা যাচ্ছিল, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সানোফি বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে। এজন্য এ দেশের অনৈতিক বিপণনব্যবস্থাকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সানোফির কর্মকর্তারা বলেছেন, বড় অঙ্কের কমিশন ও উপহার দিলে রোগীদের ওই কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন ডাক্তাররা। কিন্তু এ ধরনের মার্কেটিং সানোফির বৈশ্বিক নীতি অনুমোদন করে না। সানোফির দাবি, এ ধরনের ঘুষ না দিলে উদ্ভাবন ও বিপণন কোনোটিতেই ভালো করতে পারবে না। যেসব দেশে তারা কাজ করে সেসব দেশের কীভাবে সর্বোত্তম সেবা দেয়া যায়, তা মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে আসায় বাংলাদেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয় সানোফি। কোনো কারণে যে কোনো প্রতিষ্ঠান অফিস গুটিয়ে নিতেই পারে। সে জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। সেসব অনুসরণ করে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। বিস্তারিত জানাতে হয় কর্মীদের। যাতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কর্মীদের আর্থিক সুযোগ ও ক্ষতিপূরণও দিতে হয়। আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে আমাদের দেশে কার্যক্রম চালাতে বাধ্য করতে পারি না। ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি আমাদের দেশে কাজ করছে ১৯৫৮ সাল থেকে। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ মালিকানা সরকারের। ওষুধ উৎপাদন, মজুদ ও সরবরাহে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বীকৃতিও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। কেন হঠাৎ আমাদের বিপণন ব্যবস্থাকে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিচ্ছে সানোফি, তা বোধগম্য নয়। মুক্তবাজার ব্যবস্থায় কোম্পানিগুলো পরস্পরের প্রতিযোগী। আমাদের দেশে এ প্রতিযোগিতায় রয়েছে কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। আছে ফরেন চেম্বার। সানোফি বিষয়টি চেম্বারকে জানিয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। অবশ্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির কাজের ধরন পরিবর্তন হয়। সেটিও আমরা জানি না।

সানোফির কর্মীরা এখন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি চাকরি আছে কি নেই, কর্মীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, সানোফি গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট সানোফি বাংলাদেশ তাদের ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে সানোফি বাংলাদেশে কর্মরত প্রায় এক হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং তাদের যৌক্তিক অধিকার সমুন্নত রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান তারা।

কর্মীরা বুঝতে পারছেন না আসলে কী ঘটছে। কেউ কেউ বলছেন, সানোফি শেষমেশ এদেশে ব্যবসা বন্ধ করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকালে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে কোম্পানির ইতিবাচক সিদ্ধান্ত রয়েছে। আবার ভারতীয় কান্ট্রি চেয়ার এবং এদেশীয় কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দালালির কারণে এক হাজার পরিবার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। আসলে কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখনও গণমাধ্যম ও সানোফিতে কর্মরতদের মধ্যে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি।

আমরা মনে করি, বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। কর্মীদের অন্ধকারে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সানোফির বিষয়টিতে স্বাস্থ্য, শিল্প, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি পক্ষ জড়িত। ফরাসি কোম্পানি মালিকানায় থাকায় দূতাবাসও পক্ষ হতে পারে। নিরীহ কর্মীদের সুরক্ষায় বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান করতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। সরকার কিংবা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পেলে কর্মীরা অন্তত দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..