সম্পাদকীয়

সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হোক

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে সমালোচনা চলছে অনেক আগে থেকেই। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ বিভাগই বিভিন্ন সক্ষমতা ঘাটতিতে ভুগছে। এরই মধ্যে বিভাগগুলো সান্ধ্য কোর্স চালু করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নিয়মিত কার্যক্রমে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এমনকি সার্বিকভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন তাদের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি খুইয়ে বসতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এ পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করার পরই সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি শিক্ষার মান ফিরে আসবে বলেই বিশ্বাস।

ইউজিসির দাবি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সব অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খোলা এবং পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ কার্যক্রমে তারা কমিশনের কোনো অনুমতি নেয় না, যদিও এটা শর্তাধীন বিষয়। এ পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্বায়ত্তশাসন চর্চা এবং সুশাসনের অপনোদন ঘটাতে রাস্তা খুলে দিতে পারে। উপরন্তু এই সান্ধ্য কোর্সটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য, মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে খাটো করে বলেও মনে হচ্ছে। কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা কার্যক্রমে আরোপিত দায়িত্বে অবহেলা, কিন্তু শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা লাভের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও হতাশা দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের কথাও রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে, যা আগে থেকেই বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক সমালোচনায় উঠে আসে। শিক্ষাচর্চা ও গবেষণা কার্যক্রম ভুলে কিছু শিক্ষক মদতপুষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়ে আর্থিক অনিয়ম ও অনাচার চালায় বলেও পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব-কর্তব্য ও আচরণবিধি নির্ধারিত হয়েছে। এসব আচরণবিধিতে তারা একটি বিশেষ পর্যায়ে কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ ও আচার্যের অধীনস্থ হলেও জবাবদিহির সংস্কৃতি বহু আগে থেকেই অনুপস্থিত দেখা যায়। শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব কার্যক্রমে স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউজিসির এ আদেশ কার্যকর হওয়া উচিত বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..