কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মুন্নু সিরামিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে উঠে আসে সিরামিক খাতের কোম্পানি মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৩০ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সপ্তাহজেুড়ে মুন্নু সিরামিকের ৩৭ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় সাত কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর সাত দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১১ টাকা ৭০ পয়সা কমে সর্বশেষ ১৪৮ টাকায় লেনদেন হয়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর হয় ১৪৪ টাকা ৯০ পয়সা। ওইদিন চার লাখ ৮৮ হাজার ৩৬২টি শেয়ার সাত লাখ ২১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। উল্লেখ্য শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ার প্রেক্ষিতে কোম্পানি কোনো কারণ দর্শাতে পারেনি। এছাড়া কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগ ওঠায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শেয়ারটির লেনদেন স্পট মার্কেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৯ তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ২০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩০ পয়সা। এছাড়া জুলাই ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ছয় টাকা ৪৫ পয়সা। যা আর আগের বছর একই সময়ে ছিল দুই টাকা।
দরপতনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলহাজ্ব টেক্সটাইলের সাত কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় এক কোটি ৫৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ৭০ পয়সা বেড়ে সর্বশেষ ৫২ টাকায় লেনদেন হয়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর হয় ৫১ টাকা। ওইদিন দুই লাখ ছয় হাজার ৬২৪টি শেয়ার এক লাখ আট হাজার টাকায় লেনদেন হয়।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের দর কমেছে ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির সর্বমোট ৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা। সপ্তাহের শেষদিনে জেএমআই সিরিঞ্জের শেয়ারদর ২৬ টাকা ৭০ পয়সা বা ছয় দশমিক ৪১ শতাংশ কমে সবশেষ লেনদেন হয় ৩৯০ টাকা ১০ পয়সা। লেনদেনের শেষে সর্বশেষ দর হয় ৩৯২ টাকা ৬০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির এক লাখ ৯৭
হাজার ৪৪৩টি মেয়ার তিন হাজার ২০৭ বার হাত বদল হয়। যার মোট মূল্য ছিল সাত কোটি ৯২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রকৌশল খাতের মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৮৬ কোটি ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় ১৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা বা ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ কমে সর্বশেষ লেনদেন হয় এক হাজার ৬০০ টাকা ২০ পয়সায়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর অপরিবর্তিত থাকে। ওইদিন কোম্পানিটির ৮০ হাজার ৬৮০টি শেয়ার দুই হাজার ৮৫৮ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হয় ১২ কোটি ৯৭ লাখ ২৪ হাজার টাকার শেয়ার।
এরপরে সায়হম কটন মিলসের দর ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় চার কোটি ১৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকার। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮০০ টাকার। কে অ্যান্ড কিউ’র দর ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে সাত কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় এক কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকার। জেমিনি সি ফুডের দর ১৬ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ১১ কোটি ৫২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় দুই কোটি ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকার। স্টাইল ক্রাফটের দর ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকার। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় আট কোটি ৭১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকার। ওয়াটা কেমিক্যালে দর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার। গড়ে প্রতিদিন লেনদনে হয় ছয় কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকার। সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের দর ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৪৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় আট লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকার।

 

সর্বশেষ..