কোম্পানি সংবাদ

সাপ্তাহিক লেনদেনের ছয় দশমিক ৩৭ শতাংশ ন্যাশনাল টিউবসের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি শেয়ার ১২০ কোটি ৮৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ছয় দশমিক ৩৭ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর সাত দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে।
সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর আট দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ১৪ টাকা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১৫৫ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার মোট মূল্য ছিল ১৯ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ১৫৫ টাকা ২০ পয়সায়। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৫৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১৭৮ টাকায় ওঠানামা করে।
‘এ’ ক্যাটেগরির ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা পাঁচ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৩ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৮৬ পয়সা লোকসান ও ২১৫ টাকা ২০ পয়সা। আর ২০১৮ সালে লোকসান করেছে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর একই সময় লোকসান ছিল সাত কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫২৫ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট তিন কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৮৫টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, সরকারি ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
আর লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল মুন্নু জুট স্টাফলার্স লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির চার লাখ ৯০ হাজার ৫০০টি শেয়ার ৮৬ কোটি ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের চার দশমিক ৫৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ বা ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ৬০০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ৬০০ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে ৮০ হাজার ৬৮০টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৮৫৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১২ কোটি ৯৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন এক হাজার ৬০০ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৮০ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৬৪১ টাকা ১০ পয়সা থেকে পাঁচ হাজার ৬৩৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৩৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে আট টাকা ৭৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৩০ পয়সা।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময়ে ইপিএস হয়েছে ৫৭ পয়সা ও এনএভি ৫২ টাকা ২৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা।
১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি সাত লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ২০ লাখ ৭০ হাজার শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৪২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৬ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৫৩টি শেয়ার ৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের দুই দশমিক ৭৬ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে ছয় দশমিক ৪১ শতাংশ বা ২৬ টাকা ৭০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৯০ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৮২ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে কোম্পানিটির এক লাখ ৯৭ হাজার ৪৪৩টি শেয়ার মোট তিন হাজার ২০৭ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর সাত কোটি ৯২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩৮০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪২৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৫২৯ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ২১ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৭৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক দুই দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ..