কোম্পানি সংবাদ

সাপ্তাহিক লেনদেনের ছয় শতাংশ ফরচুন শুজের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ফরচুন শুজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দুই কোটি ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৪টি শেয়ার ৯৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর তিন দশমিক ৬৪ শতাংশ বা এক টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৯ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা। ওইদিন ৩৮ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯১টি শেয়ার মোট চার হাজার ৭৪ বার হাতবদল হয়। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪১ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৪১ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৮৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৫ টাকা ৫৯ পয়সা। ওই সময় মোট মুনাফা করেছে ২০ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এর আগে ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় ইপিএস হয়েছে দুই টাকা তিন পয়সা এবং এনএভি ১৫ টাকা ২৪ পয়সা। এটি তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫৫ পয়সা ও ১৪ টাকা ২৯ পয়সা।
কোম্পানিটি ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ১২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
লেনদেনে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮০টি শেয়ার ৫০ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ১১ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।
সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩৭৭ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৩৭৬ টাকা ৭০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির মোট দুই লাখ ৫৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ার মোট ৮৬৬ বার হাতবদল হয় যার মোট মূল্য ছিল ৯ কোটি ৫৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। শেয়ারটির ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩৭৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৯ টাকা ৫০ পয়সায় হাত বদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৬৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৪২২ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। যা তার আগের বছর একই সময় ছিল ৯০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস। আলোচিত সময় ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৪০ টাকা ৮০ পয়সা। যা তার আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা ও ৪১ টাকা ২২ পয়সা। ২০১৮ সালে মুনাফা করেছে ৪৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছর হয়েছিল ৪১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৭৯ কোটি আট লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৯৪৫ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৪৭ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার একটি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ এবং তিন দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল গ্রামীণফোন লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৮টি শেয়ার ৫৪ কোটি ৭১ লাখ ১২ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের চার শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর পাঁচ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। এর পরের অবস্থানগুলোতে ছিল যথাক্রমে সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, মুন্নু সিরামিক ও ঢাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..