কোম্পানি সংবাদ

সাপ্তাহিক লেনদেনের সাড়ে পাঁচ শতাংশ ন্যাশনাল টিউবসের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার ছয়টি শেয়ার ৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর চার দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ বা চার ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। ওইদিন কোম্পানিটির ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯১টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার বাজারদর ১৮ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ১০ পয়সায়। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৭৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৮৮ টাকায় হাতবদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ২০৫ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। 

‘এ’ ক্যাটেগরির ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা পাঁচ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৩ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৮৬ পয়সা লোকসান ও ২১৫ টাকা ২০ পয়সা। আর ২০১৮ সালে লোকসান করেছে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার আগের বছর একই সময় লোকসান ছিল সাত কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫২৫ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট তিন কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৮৫টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, সরকারি ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

আর লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৯৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৩১টি শেয়ার ৫২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ১৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৫২ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫১ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। ওইদিন ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ১৯৮ বার হাতবদল হয়। যার বাজার দর ছয় কোটি ৯৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৬২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি ছয় শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৫৩ টাকা ৬১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১২ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর আগে ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা এবং এনএভি ৫২ টাকা ৭০ পয়সা। এটি তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ৪৯ পয়সা ও ৬০ টাকা ৯৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২০০ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে সরকারি ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৪ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ২১ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯টি শেয়ার ৫১ কোটি ১৭ লাখ ছয় হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ২৭ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৩৮ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৩৮ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে চার লাখ ২৬ হাজার ৪২৯টি শেয়ার মোট ৪৫১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৩৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২২৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৮০ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে।

 চতুর্থ অবস্থানে ছিল ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৪০১টি শেয়ার ৪১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের দুই দশমিক ৬৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে।

এর পরের অবস্থানে ছিল মুন্নু জুট স্টাফলার্স লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দুই লাখ ৫৬ হাজার ৮২৩টি শেয়ার ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের দুই দশমিক ৪০ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে।

সর্বশেষ..