কোম্পানি সংবাদ

সাপ্তাহিক লেনদেনের ৭.৯ শতাংশ ইউনাইটেড পাওয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৪০ লাখ ৮২ হাজার ৩৮টি শেয়ার ১৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের সাত দশমিক ৯ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর প্রায় চার শতাংশ বেড়েছে।
সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৫২ শতাংশ বা ১০ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৪১১ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৪১০ টাকা ৮০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৭টি শেয়ার মোট তিন হাজার ২৭৯ বার হাতবদল হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৪৬ কোটি ৯৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪০৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪১৫ টাকায় হাতবদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৬৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৪২২ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা আট পয়সা এবং ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৮০ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ১৬ টাকা ১৪ পয়সা।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল ৯০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস। আলোচিত সময় ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৪০ টাকা ৮০ পয়সা, যা তার আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা ও ৪১ টাকা ২২ পয়সা। ২০১৮ সালে মুনাফা করেছে ৪৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছর হয়েছিল ৪১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৭৯ কোটি আট লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৯৪৫ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৪৭ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার একটি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ এবং তিন দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
লেনদেনে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির এক কোটি ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৭টি শেয়ার ৮১ কোটি ১৪ লাখ চার হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৫২ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৫৮ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৩০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৪৪ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ছয় টাকা ১৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ২৬ টাকা ৮৭ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ২২৩ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫৭৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৬২টি শেয়ার ৭০ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ছয় শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর দুই দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে এক দশমিক ৪৯ শতাংশ বা সাত টাকা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৪৯৫ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪৯৫ টাকা ৭০ পয়সা। দিনজুড়ে কোম্পানিটির এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৩টি শেয়ার মোট দুই হাজার ২৮৪ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর আট কোটি ৪৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৪৯৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০৮ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়।

সর্বশেষ..