প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক ক্রিকেটে

বাংলাদেশে ক্রিকেট এখন নিছক খেলা নয়। জিতলে সবাই পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠে। হারলে মাতম! যেন দেশের ১৬ কোটি মানুষের রক্তে মিশে গেছে বিষয়টি। ২০১৪ কিংবা ২০১৬ এশিয়া কাপ কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়ায় দেশের ক্রীড়ামোদীদের হƒদয় ভেঙে ছিল। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কথা অনেকের মনে পড়বে। সেবারই আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য টেস্টে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন আমাদের তরুণরা। মহামারি কভিডকালে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে এ দেশ-ও দেশে গিয়ে, জৈব সুরক্ষাবলয়ে থেকে ক্রিকেট খেলা একপ্রকার কঠিনই বটে। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে কড়াকড়ি বেশি। এর মধ্যে খেলেই আমাদের ক্রিকেটাররা এক স্মরণীয় জয় তুলে এনেছেন। জয়টা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেরও সেরা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। প্রায় সেরা শক্তির নিউজিল্যান্ড, যারা মাস ছয়েক আগেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে; তাদেরই দেশে গিয়ে টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় পুরো সময় ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কোনো সংস্করণেই কখনও জেতেনি বাংলাদেশ। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরুতেই গতকাল ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এ আনন্দ দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। এ অর্জন ধরে রাখতে হবে। পরবর্তী টেস্টেও যেন ধারাবাহিকতা থাকে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করতে হবে। দেশবাসীর একটাই চাওয়া এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ জিতুক বাংলাদেশ। কিন্তু খেলায় ধারাবাহিকতা না থাকায় হতাশ হই আমরা। যখন মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকতে হয়, তখন উদারভাবে উইকেট বিলিয়ে দেন আমাদের খেলোয়াড়রা। টেস্ট আর ওয়ানডের পার্থক্য বোঝেন না তারা, এমন বক্রোক্তিও শোনা যায়।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ জয় করে ফেরার পর অনেক হতাশার মধ্যে নতুন এক আশার আলো দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। ক্রিকেটে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট জয়। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট জয়ের এই অর্জন বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। খেলায় অবশ্যই হার-জিত থাকবে। অনেক সময় হারলেও দর্শক-সমর্থকদের ভালোবাসা পাওয়া যায়। লড়াই করে হেরে গেলেও তা সম্মানের, বীরত্বের। খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়ি চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। সাফল্য ধরে টানা অনুশীলন ও সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। আমরা এক খেলায় জিতি তো পরের ১০ খেলায় হেরে যাই।

ক্রিকেটাররা যাতে পরিশীলিত, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে অভ্যস্ত করতে হবে। শুধু ভালো খেলা দিয়েই দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভবÑএ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে বিসিবিকে। আমরা অবশ্যই স্বীকৃতি ও সম্মান দেব। কিন্তু অর্জন যেন উপঢৌকন-প্রশংসায় ভেসে না যায়। একক কৃতিত্ব নয়, ধারাবাহিক চেষ্টা এবং দলগত অর্জনে জোর দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্রিকেটসহ সব খেলায় আরও সাফল্য আসবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।