সম্পাদকীয়

সাফল্য আসুক আর্চারিতেও

শুক্রবার ঢাকায় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ মোট ১৭টি দেশের তিরন্দাজরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। ৬০ ও ৭০ মিটার দুটি আলাদা নিশানামঞ্চে তিরন্দাজরা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন নিজ দেশের পক্ষে পদক, সুনাম ও গৌরব বয়ে আনার। বাংলাদেশ আর্চারি দল টুর্নামেন্ট সামনে রেখে বেশ কিছুদিন কঠোর অনুশীলন করেছে। দলের অন্যতম আর্চার বা তিরন্দাজ শ্যামলী রায় অনুশীলনে নিয়মিতই ৩২০ স্কোর করছেন। অন্যদের স্কোরও আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ দলের আর্চারি কোচ নিশীথ দাসও দলের পারফরম্যান্সে আশাবাদী। এ সম্পাদকীয় ছাপা হতে হতে পাঠক খেলার ফল জেনে যাবেন; তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ আর্চারি দলের প্রতি আমাদের শুভকামনা জানিয়ে রাখি। মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশে পেশাগতভাবে আর্চারি চর্চার ইতিহাস বেশিদিনের নয়। অন্যদিকে অনেক দেশ নিয়মিত আর্চারি চর্চা করে, পদক অর্জন তাদের জন্য সহজ ব্যাপার। ভুটানে আর্চারি তো জাতীয় খেলাই। তাদের ডিঙিয়ে পদক পাওয়াটা সহজ নয়। তবে অনুশীলনের স্কোর যেভাবে আশাবাদী করেছে, সেটি ধরে রাখাই আমাদের আর্চারদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতার ময়দানে শুধু শারীরিক স্কিল বা দক্ষতারই ব্যবহার হয় না, মানসিকভাবে শক্ত থাকাটাও এর অংশ।

আর্চারি বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা তো নয়ই; পরিচিত খেলাও নয়। আমাদের অনেক ফেডারেশন আছে, যারা দিনের পর দিন তেমন কোনো টুর্নামেন্ট বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারছে না। সে তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত আর্চারি ফেডারেশন যে এরকম একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ফেললো এতে তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। ফুটবল বা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দুই-তিনটি দল এলেই আমরা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিই; কিন্তু যে ফেডারেশনটি ১৭টি দল নিয়ে এরকম একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করলো সে বিষয়ে আমরা তুলনামূলক নীরব। শুধু তা-ই নয়, টুর্নামেন্টটিকে দেখা হচ্ছে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের একটি মহড়া হিসেবে। ওই প্রতিযোগিতায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩২টি দল অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান টুর্নামেন্ট থেকে যেমন লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করবেন, তেমনি আয়োজকরাও পরবর্তী আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

ক্রিকেট ও দাবা ছাড়া অন্য খেলাগুলোতে বাংলাদেশের সাফল্য বলার মতো নয়। একসময় কাবাডি ও হকিতে কিছু সাফল্য এসেছিল; এখন সেগুলোও ম্রিয়মাণ। এ অবস্থায় ছোট ছোট ফেডারেশন যখন বড় আয়োজন করছে, তখন সেগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য। যে কোনো ক্ষেত্রেই উৎসাহ ও প্রণোদনা পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আমরা চাইবো, আর্চারিতে বাংলাদেশ সফলতা লাভ করুক। আর্চারির উদাহরণ দেখে এগিয়ে আসুক অন্য ফেডারেশনগুলোও।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..