দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই। গতকাল সকাল পৌনে ৬টার দিকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ
করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ছিলেন কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার পরিচালক। বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজায় সংস্কৃতি অঙ্গন, বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। গোপালগঞ্জ শহরে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে গতকাল রাতেই তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ অবস্থায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে গত রোববার বিএসএমএমইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে তাকে সেখানে নেয়া হয়। করোনায় সংক্রমিত হয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর আরও নানা সমস্যা ধরা পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সোনালী, অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারের পতনের কারণ অনুসন্ধানে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জে জš§গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ‚গোলে স্নাতকোত্তর ও আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৬৩ সালে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সুষ্ঠু বিকাশে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যে মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেনÑতা এ দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
ইব্রাহিম খালেদের ভ‚মিকার কথা স্মরণ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এক শোকবার্তায় বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়মের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ইব্রাহিম খালেদ আলোচনায় এসেছেন। প্রখ্যাত এ ব্যাংকার ছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের বহুমুখী কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিয়েও গণমাধ্যমে সরব ছিলেন প্রয়াত এ ব্যাংকার।
খান্দকার ইব্রাহিম খালেদের স্মৃতিচারণে এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো। তিনি ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের একজন দক্ষ, যোগ্য এবং সাহসী ব্যক্তিত্ব। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে তার বিশ্লেষণ ছিল জ্ঞানগর্ব এবং বাস্তবমুখী। তিনি ছিলেন জ্ঞানী এবং গভীর বিশ্লেষক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন- এই দুর্ভাগা দেশে (ইব্রাহিম খালেদের মতো) এমন ভালো এবং ন্যায়পরায়ণ মানুষ খুব বেশি জš§ায় না। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ভুবনের উজ্জ্বল প্রদীপগুলো একে একে নিভে যাচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের এ শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
সাবেক ডেপুটি গভর্নর, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ধীরস্থির, দৃঢ়ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মরহুম খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর্থিক খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক ভ‚মিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমগ্র ব্যাংক পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..