নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে নিকুঞ্জ-১ এলাকায় সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রাষ্ট্রের ২৪ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কমিশন কখনও ব্যক্তির পরিচয় দেখে অনুসন্ধান করে না। মূল বিষয় হলো অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠতা। রাজধানীর অভিজাত নিকুঞ্জ এলাকার লেকড্রাইভ রোডের ৬ নম্বর প্লটে তিনতলাবিশিষ্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে হামিদের। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষে তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে সপরিবারে ওই বাড়িতে ওঠেন।
অভিযোগ উঠেছে, বাড়ির দুপাশের রাস্তায় হাঁটার জন্য বাঁধা, নান্দনিক ডেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ, খালসংলগ্ন অত্যাধুনিক ল্যাম্পপোস্ট নির্মাণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২০ মার্চে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে ‘হামিদের সুখবিলাসে গচ্চা ২৪ কোটি টাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লেকড্রাইভ রোডের ৬ নম্বর প্লটে হামিদের তিনতলাবিশিষ্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি। কর্নার প্লট হওয়ায় বাড়ির দুদিক ফাঁকা। সামনের অংশে প্রবহমান খাল। দুপাশে হাঁটার (ওয়াকওয়ে) বাঁধানো রাস্তা। নান্দনিক ডিজাইনে তৈরি ডেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ। দেশি-বিদেশি ফুল ও শৌখিন পাতাবাহারে সজ্জিত চারপাশ।
‘এমনকি খালের পানিতেও ভাসছে পদ্মফুল। সারি সারি খেজুরগাছ লেকের পাড়ঘেঁষে। গাছের খাঁজে খাঁজে নিয়মিত রস সংগ্রহের চিহ্ন। খালসংলগ্ন রাস্তা আলোকিত করতেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কিছুদূর পরপর বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাম্প পোস্ট।’
আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ২০তম এবং ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর নিকুঞ্জে তারা বাসায় ওঠেন।
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post