মত-বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে করোনা

. মুহম্মদ মাহবুব আলী : করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ছায়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। সরকার যথেষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করলেও করোনা মহামারি প্রায় ১৮০টি দেশকে এ মুহূর্তে আক্রমণ করেছে, যার প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তিন মাস ধরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে দেখা যায়, সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দেখা যায়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক লেনদেন সবচেয়ে বেশি। চীনের ওপর এদেশের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের অতিমাত্রায় নির্ভরতা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টে একটি নিয়ম আছে‘ডু নট পুট অল দ্য এগ্্জ ইন দ্য সেইম বাস্কেট।’ আমাদের দেশে যারা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেন, তাদের কাছে মূলত চীন অতিপ্রিয় ব্যবসায়িক রাষ্ট্র। চীনের উহানে যখন করোনাভাইরাসের আক্রমণ শুরু হলো তখন অনেকে বিকল্প ব্যবসার কথা চিন্তা করেননি। করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৮০ দেশে দুই লাখ ৪০ হাজারের মতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে প্রবাসে কিছু বাংলাদেশি মারা গেলেও দেশে মৃত্যুর ঘটনা কম। কিন্তু অর্থনীতিতে যে ধরনের আক্রমণ শুরু হয়েছে, তার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিলেও কেউ কেউ এটিকে ঠিকমতো মূল্যায়ন করছে না। আমাদের দেশের অনেক শিল্পকারখানার কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। এখন উহানে যদিও করোনার প্রভাব কেটে গেছে, কিন্তু অনেক কারখানায় পণ্য উৎপাদন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিশেষত অর্থনৈতিক খাতের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী জাতীয় কমিটি অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যাংকার, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে গঠন করে কীভাবে ঝুঁকি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হ্রাস করা যায়, সেটি দেখা ও কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করা দরকার। আমাদের পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং ফরোয়ার্ড লিংকেজের ক্ষেত্রে চীন থেকে পণ্য আমদানি করা হতো। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৫৭ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার। বিশ্বে এখন রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে তেল নিয়ে যুদ্ধ চলছে। তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম কমলেও তেল কিনে মজুত করার মতো বাড়তি অর্থ আমাদের নেই। ফলে খুব বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশে অনেক বিদেশি কোম্পানি হয়তো ব্যবসা করতে আসত; কিন্তু করোনাভাইরাস এমন একটি পরিবেশের সৃষ্টি করেছে যার দরুন সমগ্র বিশ্বেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরবরাহজনিত যোগাযোগ পদ্ধতিতে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী ভারতের সঙ্গেও আমাদের দেশের যোগাযোগ অন্য দেশের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমাদের দেশে সাধারণ রোগী যারা দেশে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে ভারতে উন্নততর চিকিৎসার জন্য যেত, তারা এখন যেতে পারছে না। আমাদের মধ্যে একশ্রেণির মুনাফাখোর-কালোবাজারি রয়েছে। যখনই ভারত তাদের দেশে যাওয়ার জন্য ভিসা বাতিল করল, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৫ টাকা দামের প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বেড়ে হয়ে গেল ৭০ টাকা। এ মুনাফাখোরদের একটি বড় অংশ সুচতুরভাবে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার থেকে এর আগে মাস্ক সরিয়ে ফেলেছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়। বারংবার সতর্কতার নির্দেশ সরকারপ্রধান দিচ্ছেন। অনেকে নিজেরা মাল মজুত করছে এবং অন্যদের মাল মজুত করার জন্য নাকি ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাতে কেউ অনেক বেশি মজুত না করতে পারে সেজন্য সতর্ক থাকা দরকার। সরকার গত ১১ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামোকে বিশেষত অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে শক্তিশালী করতে চেয়েছে। এর সুফল দেশি অর্থনীতিতেও বহুলাংশে প্রতিভাত হয়েছে। সমস্যা হলো কভিড-১৯-এর সংক্রমণ শুরুর পর কাঁকড়া, কুচিয়াসহ হিমায়িত মাছ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক স্থানে শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাচ্ছে এবং যারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মধ্যবিত্ত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল, তারা আবার পূর্ববৎ অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রেও সমস্যার উদ্রেক হচ্ছে। পোশাকশিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করায় বাধ্য হয়ে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আমদানি শুল্ক থেকে আয় কমে যাবে, ফলে জাতীয় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দেবে। এদিকে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে ধস নামছে।

আমাদের দেশের অর্থনীতি যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতি, তথাপি পুরোপুরি ফ্রি ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট বহাল আছে, তা বলা যাবে না। তারপরও ব্যাংকগুলো থেকে যেসব ঋণগ্রহীতা ঋণ নিয়েছেন, তারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ যথাসময়ে নাও করতে পারেন। কেননা উৎপাদিত পণ্য যদি স্বদেশে বিক্রি হয়, তবে এক অবস্থা; আর দেশের বাইরে রপ্তানি করলে আরেক অবস্থা। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রপ্তানিলব্ধ আয় রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে কমে গেলে দেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কোনো কারণে শিপমেন্ট ডিলে হওয়ায় রপ্তানিকারকরা সমস্যায় পড়লে তাদের সাবসিডি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা দরকার। অন্যদিকে যারা বহিঃস্থ জগতের কারণে দেশে বেকার হয়ে যাবে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা করছে; কিন্তু এটি নির্ভর করে বৈশ্বিক অবস্থা, দেশে ভাইরাসটি ছড়ায় কি না এবং মানুষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক যেসব ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে সেটি প্রতিপালন করে কি না তার ওপর। এদিকে দেশের বিমান সংস্থাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ বিমানে যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছে। ফলে যারা বেসামরিক বিমান সংস্থায় বিভিন্ন পদে কাজ করছিলেন, তাদের অনেকেই সাময়িকভাবে চাকরি হারানোয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এদিকে একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবমতে প্রায় তিন লাখ মানুষ ইতালিতে চাকরি করত। যেহেতু এখন ইতালির অবস্থা খারাপ, তাই তাদের আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দিতে পারে এবং দেশে অর্থ প্রেরণ কমে যেতে পারে। সৌদি আরবেও করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে, তাই সেদেশে কর্মরতদের পক্ষে দেশে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ কমে যাবে। আমার এক সাবেক সহকর্মী ব্রিটেনে আছেন। তিনি জানালেন, সেখানে শিশুখাদ্য পেতে সামান্য সমস্যা হচ্ছে। তবে এটি কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি যে কয়টি মেগা প্রকল্প সরকার গ্রহণ করেছিল, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর জন্য সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। তবে এক ধরনের কনসালটেন্ট ও অর্থনীতিবিদ করোনাভাইরাস নিয়ে তাদের সুবিধামতো মনগড়া বক্তব্য রেখে চলেছেন। এটি বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী থেকে তাদের অর্থ আদায়ের কোনো উপায় কি না সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। সুযোগসন্ধানী একটি কায়েমি গোষ্ঠী কালে কালে সুযোগ আদায়ে তৎপর থাকে। করোনাভাইরাসের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিডিবিআরকে সরকার যথাযথভাবে কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এক ঢাকা নগরীতেই প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৮ হাজার লোক বসবাস করে। কৃষি খাতেও যাতে ফসল উৎপাদন হয় এবং সুচারুরূপে বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রত্যেক প্রান্তে ডিস্ট্রিবিউশন করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশে স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্য থেকে তরুণ-তরুণীদের এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনাভাইরাস কেবল জাতীয় সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যায় দেশের বর্তমান তরুণ প্রজš§কে সঠিকভাবে পরিচর্যার জন্য কাজে লাগাতে হবে। প্রত্যেক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা এখনও করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক হচ্ছেন না, তাদের উচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা। যেহেতু দেশটি জনবহুল, তাই কিছু স্কুলকেও আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে তৈরি করা দরকার। আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধান করা দরকার, যদিও সরকার এরই মধ্যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধানের উপায় গ্রহণ করেছে। তবে আমাদের দেশে একটি গবেষণায় দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ্ব চিকিৎসকদের ব্যবহার রোগীর প্রতি তুলনামূলকভাবে সহনীয় হলেও ত্রিশের কম বয়সি চিকিৎসকদের ব্যবহার অধিকাংশ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কর্কশ, যদিও অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি মাত্রায় সহায়তা কেমন করে দেওয়া যায়, তা সরকারকে তার কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো বিশেষ চেম্বার যেন এককভাব সরকারের দেওয়া সুবিধা ভোগ না করে সর্বজনীন পদ্ধতিতে গ্রহণ করে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

আমাদের দেশের প্রয়োজনের নিরিখে রমজান পর্যন্ত কীভাবে আর্থিক সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বিশেষত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করে দেশের সাধারণ মানুষের নাগরিক নিরাপত্তা, খাদ্যব্যবস্থা এবং কর্মপ্রত্যাশী মানুষের উপকারে লাগানোর মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা মুনাফাখোর ও অসদোপায় অবলম্বনকারী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার। এদেশে অবশ্য আমরা সব সময়ে দুর্যোগ প্রতিরোধে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকি। অহেতুক ভয়ভীতি কিংবা গুজব রটিয়ে যারা আনন্দ পায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দেশের প্রত্যেককেই আইন মেনে চলা দরকার, কেননা করোনাভাইরাস যাতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জাতির পিতার জš§বার্ষিকী সংক্ষিপ্ত পরিসরে পালন করেছেন। এটি আমাদের কাছে জনদুর্ভোগ এড়ানোর দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত। প্রস্তাবিত কমিটি যাতে আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প এবং কৃষিনির্ভর পণ্য উৎপাদন বাজারজাতকরণ ও বিজ্ঞাপনে এগিয়ে আসে, সেজন্য সঠিক পন্থা নির্ধারণ করতে হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তারা যেন ঠিকমতো কর দেয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দেশে ফেরার পর প্রবাসীরা যাতে বাহক হিসেবে এ রোগ অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা খাত, বিশেষত বেসরকারি খাতে চিকিৎসক অপ্রতুলতা ও চিকিৎসকের অনুপযুক্ততা রয়েছে। কিন্তু এখন সবাইকে সরকারের নির্দেশিত পথ ধরে এগিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে যারা সেবা প্রদান করবেন, তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং রোগীর প্রতি ব্যবহারও আন্তরিক হতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা থাকতে হবে।

আর্থিক খাতে ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ যথাযথভাবে করতে হবে। এ জন্য চাই সরকারের বিশেষ নির্দেশনা। আমদানি-রপ্তানি উভয় খাতে যেহেতু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই আমাদের দেশের মানুষের কাছে অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছাতে ডোমেস্টিক সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সঠিকভাবে করতে হবে। ইনবাউন্ড লজিস্টিক ও আউটবাউন্ড লজিস্টিকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। যেহেতু রাজস্ব কম আদায় হবে, তাই মুদ্রানীতিকে বাস্তবোপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি সুষম বণ্টন ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়ন করার কৌশলগুলোকে অধিকতর কার্যকর করতে হবে। মুনাফাখোর ও কালোবাজারকারীরা যাতে অধিক মুনাফা অর্জন করতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। বহিঃস্থ কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে মোট চাহিদা ও মোট সরবরাহ উভয়ই হ্রাস পাবে এবং ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে ঝামেলার সঞ্চার হবে। এদিকে দেশে স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটক কমে যাওয়ায় পর্যটন খাতে আয় কমে যাচ্ছে। আবার গণপরিবহন ব্যবহার করতে অনেকে ভয় পাওয়ায় যাতায়াতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যারা নির্মল আনন্দ পেত এবং এ-সংক্রান্ত আয়-রোজগার করত, তাও হ্রাস পেয়েছে। কভিড-১৯ নিয়ে সার্ক অঞ্চলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি বিমসটেক এলাকায় আলাপ-আলোচনা হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে আঞ্চলিক সাহায্য-সহযোগিতা বাড়ানো যায়। এদিকে যারা হঠাৎ বেকার হয়ে যাবে তাদের জন্য সাময়িক ভাতা চালু করা দরকার। আবার যেসব আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের জন্য বৈধ নিয়মনীতির আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজস্ব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মুদ্রানীতির যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আজ দেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিকভাবে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা বৈশ্বিক কারণে; কিন্তু আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা ঠেকাতে বর্তমান সরকার সজাগ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আরও মানবিক হতে হবে। তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভূমিকা প্রশংসনীয়।

ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট ও প্রফেসর

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..