প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্বদানকারীদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের কম

 

এ্যারিয়ান স্ট্যালিন : রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়েছেন মনির হোসেন জীবন। শিক্ষাজীবন শেষে সময়ের দেখানো পথেই পা বাড়িয়েছেন। অনলাইনভিত্তিক একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ গ্রুপের কাজের মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার, বিভিন্ন রকম সলিউশন, ওয়েব সার্ভিস,  প্রকাশনার মতো কাজ। গ্রামের বাড়িতে করেছেন একটি মৎস্য ও পোলট্রি ফার্ম। এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা।

জীবন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই একটা কিছু করা এখন সময়ের দাবি। সেই দাবি মেটাতেই গড়ে তুলেছিলাম অনলাইনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর বাইরেও এ রকম উদাহরণ আছে অসংখ্য।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীমা জিতু পড়ালেখার পাট চুকানোর পর এক দিনের জন্যও চাকরি খোঁজেননি। নিজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কাজে নেমে পড়েছেন। নিজের ডিজাইনে তৈরি আসবাব দিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানÑরুবী উড। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। এ রকম হাজারো উদাহরণ ছড়িয়ে আছে সারা দেশেই।

আশার খবর এটাই, এরা সবাই তরুণ। এসব সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্বদানকারীদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের কম। তাদের কেউ তথ্যপ্রযুক্তি, কেউ পণ্য বা সেবা, কেউ বা পর্যটনসহ নানা ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সফলতা পেতে অনেক কাঠখড়ও পুড়িয়েছেন কেউ কেউ। অনেক বাধা এসেছে, তবু হার মানেননি। তারা এখন অনেকটাই সফল। নিজের প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করানোর পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানে এখন আরও অনেককে চাকরিও দিয়েছেন।

সম্প্রতি এক হাজার সামাজিক উদ্যোগের ওপর পরিচালিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশে এখন অন্যের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও কম। প্রতি তিনজনের দুজনই উপার্জন করে।

দেশের কৃষির নতুন খাতসহ নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মতো সামাজিক উদ্যোগে তরুণদের এগিয়ে থাকা আসলেই শুভপ্রদ ঘটনা। তরুণরা অতীতেও সামাজিক উদ্যোগ ও সেবামূলক কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন সামাজিক ব্যবসার মতো নতুন খাতেও তাদেরই অগ্রণী হয়ে থাকা জাতীয় আত্মবিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কেউ তরুণ উদ্যোক্তা, কেউ বা সমাজকর্মী। অন্যের অধীনে চাকরি না করে নিজেই কিছু করতে চাচ্ছে।

জরিপে উঠে আসা তথ্যমতে, সামাজিক উদ্যোগের বেলায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তারুণ্যের সমাগম বেশি বাংলাদেশে। কোনো সামাজিক সমস্যার সমাধানে নেওয়া ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোকে বলা হচ্ছে সামাজিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগে উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগত মুনাফা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানে তা পুনর্বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে থাকেন। সেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা এর বড় এক দিক।

তরুণরাই এ ধরনের উদ্যোগে বেশি আগ্রহী। এর ইতিবাচক সাড়ার পেছনে দেশের জনসংখ্যা কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন তো রয়েছেই। আর এই জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন পপুলেশন ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যা-সুবিধা। এ পরিস্থিতিতে কাজ করা মানুষের সংখ্যা কাজ না-করা মানুষের চেয়ে বেশি থাকে।

আমরা মনে করি, সামাজিক উদ্যোগ আরও প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা দেশের ভেতর থেকেই সেবামূলক কাজের তহবিল সংগ্রহের সুযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে এ গবেষণা প্রতিবেদনে। তরুণরা আরও বেশি করে যাতে এ ধরনের উদ্যোগে ভরসা পান, তার অনুকূল বাতাবরণ সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে। গণমাধ্যমও পারে এমন উদ্যোগের প্রেরণা জুগিয়ে যেতে, সফলতার চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে। দেশে যে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে, তার কিছুটা এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পূরণ করা যায়।

কথায় আছে, সুযোগ জীবনে একবারই আসে, আসলে কি তাই? না, সুযোগ সব-সময়ই আপনার আশপাশে ঘোরাঘুরি করে। শুধু সেটিকে কাজে লাগাতে পারলেই আপনি হতে পারেন সফল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুযোগের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। আর এ সময়োচিত সুযোগকে কাজে লগিয়েই সফল হয়েছেন হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা।