মত-বিশ্লেষণ সম্পাদকীয়

সামাজিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিন

উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলো যথারীতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। উন্নয়নশীল দেশ হওয়া নিশ্চয়ই সম্মানের। সেই পথ ধরে আমরা একসময় উন্নত দেশে পরিণত হব। ধাপগুলো পেরোতে যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জন দরকার। স্বল্পোন্নত দেশগুলো উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন সহায়তা-অনুদান কিংবা কম সুদে সহনীয় শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পায়। এত দিন আমরা এগুলো পেয়ে এসেছি। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে এসব সুবিধা পাওয়া যাবে না। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা, যেন কোনোভাবেই অবস্থানের অবনমন না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য সামাজিক খাতে অর্থায়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। একই অভিমত উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মূল্যায়নেও। প্রতিষ্ঠানটি গত বুধবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রতিবেদন প্রকাশকালে এমনটি জানায়।

গত মঙ্গলবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর ‘দ্য লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ রিপোর্ট, ২০১৯’ প্রকাশ করে সংস্থাটি। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হলে উন্নত দেশগুলো থেকে পাওয়া অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পাওয়া সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এ দুটি খাতে ২০২৪ সালে অর্থায়নের উৎস এখনই অনুসন্ধান করা জরুরি।

সিপিডি বলছে, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দরকষাকষি করার এখনই সময়। উত্তরণ অবশ্যই আমাদের অগ্রগতিকে নির্দেশ করে। কিন্তু এর মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এ বার্তাও যাচ্ছে যে, আমাদের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। তাই নিয়মানুযায়ী তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক ঋণের সুদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে অনুদানের অনুপাত কমছে। সেক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশে সহায়তা বাড়াবে তারা।

উন্নয়নশীল দেশ হলে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির অর্থ সহায়তা পাবে না। কিন্তু ওই সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতি হবে আমাদের। তাই তখনও বাংলাদেশ যাতে জলবায়ু তহবিল ও এলডিসি তহবিল থেকে সহায়তা পেতে পারে, সে বিষয়ে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও উন্নত দেশগুলো ও জাতিসংঘ যাতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা অব্যাহত রাখে, সে বিষয়ে দোহা সম্মেলনে প্রস্তাব উত্থাপন করা প্রয়োজন।

উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর অবনমনের দৃষ্টান্তও আছে। শূন্য সহনশীলতায় অর্থ পাচার, দুর্নীতি নির্মূল করা গেলে সামাজিক উন্নয়ন খাতে অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা খুব কঠিন নয় বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..