সম্পাদকীয়

সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে খুব দ্রুত। নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি এসেছে। মাথাপিছু আয়ও বাড়ছে। এমনকি খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ারও দাবি করা হচ্ছে। সে হিসেবে দেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নত হওয়ার কথা। অনেকের জীবনমান উন্নত হয়েছেও। তবে হতাশাজনকভাবে একটি শ্রেণির মানুষ এখনও অনেক পিছিয়ে। এমনকি তারা তিনবেলা খাবারও ঠিকমতো পাচ্ছে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। অথচ সমাজের একটি অংশের মানুষ অর্থ-সম্পদ, খাবার অপচয় করছেন দেদার। এর অবসান হওয়া জরুরি। এ শ্রেণির মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।

চট্টগ্রামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের তথ্যের আলোকে গতকালের শেয়ার বিজে ‘একশ্রেণির মানুষ তিনবেলা পরিপূর্ণ খাবার পায় না’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুষ্টিকর সুষম খাবার গ্রহণে এখনও অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি মানুষ। এর মধ্যে একশ্রেণির মানুষ তিনবেলা খাবার খেতে পারছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক। সবার জন্য পুষ্টিকর সুষম খাবার নিশ্চিত না হলে মেধাবী জাতি গঠন ও সমৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে বৈকি।

দেশের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের সঙ্গে একশ্রেণির মানুষ ক্রমেই সম্পদশালী হয়ে উঠছে। বিপরীতে একশ্রেণি দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে বলে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। ধনী শ্রেণির মানুষের তাদের নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, ফাস্টফুড তরুণদের আকৃষ্ট করলেও তারা সুষম খাদ্যের বিষয়ে একেবারেই সচেতন নয়। এছাড়া ধনীদের বিয়ে, মেজবানসহ নানা অনুষ্ঠানে প্রচুর খাবার অপচয় হচ্ছে। অথচ অপচয় রোধ করা গেলে দরিদ্র মানুষের তিনবেলা খাবারের সংস্থান অনেক সহজ হতো। অপচয় রোধ এবং সবার জন্য খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে সুষম খাদ্য গ্রহণের অনীহা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, মানুষ এখন আর না খেয়ে মরছে না, মরছে অতি ভক্ষণের ফলে। মূলত হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার, স্থূল হয়ে যাওয়াসহ মারাত্মক ব্যাধিতে মৃত্যু হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। শিশু বয়স থেকেই সবাইকে সুষম খাবারের বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। এ কথা সত্য, সবার পুষ্টির চাহিদা পূরণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে এতে সম্পৃক্ত না করা গেলে তার সুফল মিলবে না। এজন্য সবার খাবারের সংস্থান নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যকর ও মেধাবী জাতি গঠনে সচেতনতা তৈরি জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..